সিলেটে বিএনপির সমাবেশ
ভোরের আলো ফুটতেই ধীরে ধীরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া আগের রাতে মাঠে নির্ঘুম রাত কাটানো হাজারো নেতা-কর্মী তো আছেনই। আজ শনিবার ভোর সোয়া পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত বিএনপির সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশস্থলে অবস্থান করে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
আজ বেলা দুইটায় নগরের চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ শুরু হবে। এর আগে সমাবেশস্থলে অবস্থানরত বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমবেত গান ও স্লোগানে রাত কাটিয়েছেন। এদিকে সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার রাতেই সিলেটে পৌঁছেছেন। গতকাল রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, উৎসাহ দেন।
সমাবেশস্থলে নিজেদের মতো করে মানুষজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গল্পগুজব করছেন। ঠান্ডায় জড়সড় হয়ে অনেকে কম্বল গায়ে জড়িয়ে মাঠে বসে ছিলেন। কেউ কেউ জটলা বেঁধে কাঠে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মাঠ ও আশপাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানিদের কাছ থেকে কেউ কেউ চা কিনে পান করছিলেন। কেউ কেউ আবার মঞ্চের সামনে আগেভাগে জায়গা দখল করে রেখেছেন। ভোরের আলো ফুটতেই মানুষজনও ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছেন সমাবেশস্থলে।
মঞ্চের ঠিক সামনেই কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসার জন্য বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর পর থেকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের জন্য জায়গা রাখা। ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে বাঁশের বেষ্টনীর ঠিক সামনে আগেভাগে জায়গা দখল করে বসেছেন শাহাব উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি গ্রামে। তিনি বিএনপির কট্টর সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন।
শাহাব উদ্দিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি বিছনাকান্দি থেকে সিলেটে পৌঁছেছেন।সরকার পতন আন্দোলনে তাঁর সমর্থন আছে, এটা বোঝাতেই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিরাট কষ্টের মধ্যে আছি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই। উপার্জন কমে গেছে। দিন খুব কষ্টে চলে।’
এদিকে সকাল ছয়টা থেকে সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকাসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে। নগরের চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, লামাবাজার, পুলিশ লাইনস, দরগাগেট ও মদিনা মার্কেট এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।