চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস প্রিন্ট পত্রিকা থেকে অনলাইনে সাংবাদিকতা
রিপন সারোয়ার (ময়মনসিংহ): নব্বইয়ের দশকে প্রিন্ট প্রত্রিকায় মফস্বল মুক্তাগাছায় সাংবাদিকতা শুরু করেন চারণ সাংবাদিক ও নাগরিক সাংবাদিক মনোনেশ দাস । ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে তালে তাল মিলিয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও ভিন্ন স্টাইলে সাংবাদিকতার প্রসার ঘটিয়ে চলেছেন তিনি। ময়মনসিংহ অঞ্চলে ফেসবুকে প্রথম সাংবাদিকতার চর্চা শুরু করেন তিনি। সদাহাস্যোজ¦ল, পরোপকারি, বিনয়ী স্বভাবের মনোনেশ দাস দাদা আমার মত অনেক সাংবাদিককে অনলাইন সাংবাদিকতার হাতেখড়ি দিয়েছেন । মফস্বলের অগনিত সাংবাদিক তাকে গুরু বলে শ্রদ্ধা করেন । মনোনেশ দাস দাদা তার আমার সম্পাদনায় ময়মনসিংহ বার্তা ডটকম ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হন। যদিও নানা কারণে তিনি পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ রেখেছেন । বিডি নিউজ ২৪ বøগে নাগরিক সাংবাদিকতা অর্থাৎ সিটিজেন জার্নালিস্ট হিসাবে তিনি ময়মনসিংহের বহু বিষয় নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন করেছেন । তার লেখায় অসাধারণ প্রতিভা দেখেছেন পাঠক । লাখো লাইক কমেন্ট আর শেয়ার করেছেন তারা । গুগলের সার্স ইঞ্জিনের বহু পাতায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি তার লেখায়।
একান্ত সাক্ষাতকারে মনোনেশ দাস বলেন, আমার হাত ধরে নতুন প্রজন্মের অনেক অনলাইন সাংবাদিক হয়েছেন। তারা অনলাইন সাংবাদিকতায় ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্যাপক অবদান রাখছেন। শুরুতে অনলাইন সাংবাদিকদের নিয়ে হাসাহাসি করা হতো। ময়মনসিংহ নগরীর পুরোহিত পাড়ার শীর্ষ মাদক সম্রাট ছিল আলাল। ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার সহ সম্পাদকের পরিচয় পত্র ছিল তার । দেশের শীর্ষ পত্র পত্রিকায় তাকে নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। এসব সংবাদ তোয়াক্কা করতো না সে। মনোনেশ দাস এবং আমরা অনলাইন পত্রিকায় তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মাদক সংশ্লিষ্টতায় তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। এমন অনেক মাদক কারবারি, অপরাধী অনলাইন সাংবাদিকদের নজড় এড়াতে পারেনি । উন্নয়ন সাংবাদিকতাতেও অবদান রাখছেন মফস্বলের মফস্বলে সাংবাদিকরা ।
চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস বলেন, মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় গোয়েন্দাগিরিও করতে হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি ধরা বাধা নিয়মের গন্ডিতে থেকে কর্মকর্তারা সকল তথ্য দিতে চান না। নানা যুক্তিতে তথ্য জানতে চাইলে এড়িয়ে যান। মানুষের মৌলিক অধিকার এবং গোপনীয়তা সংবিধান স্বীকৃত, জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্বভৌমত্বের বিষয়টি বিবেচনা করলে তা এড়িয়ে যাওয়ার উপায়ও নেই।
সংবাদপত্রে প্রিন্ট ভার্সনের যুগে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা পর্যায়ে সংবাদের সূত্র বা তথ্য সংগ্রহ করতে জেলা এমনকি বিভাগ পর্যায় পর্যন্ত দৌড়াতে হত । এখন গুগল সার্স ইঞ্জিনে অনেক তথ্যই জমা আছে যেসব তথ্য মফস্বলের সংবাদিকদের অনেক কাজে আসে।
যদিও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা কিভাবে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ বা অনিয়ম করেন সাংবাদিকদের তা খুঁজে বের করা অনেক কঠিন কাজ। সার্ভারে সকল তথ্য আপডেট থাকে না। আবার ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে ঝুঁকি থাকে মামলার । আরো কত হয়রানির শিকার হতে হয় আমাদের। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের প্রাচীন সেই যুগ আজ অনেকটা হারিয়ে যাচ্ছে । এখন ইন্টারনেট যুগ। যদিও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে তথ্য যোগ করে আপডেট হচ্ছে। গোয়েন্দাগিরি করে সংবাদ সংগ্রহ করার কাজটাও কমছে । এখন কারোরই কোন গোপনীয়তা আর গোপন থাকছে না। সাংবাদিক নাগরিক সাংবাদিক কলম কিংবা বাটন মোবাইলে পার্সোনাল ছবি ও ভিটিও ধারন করলে কেউ টেরই পান না। এনরয়েড মোবাইল ফোন দিয়ে প্রায় সকল তথ্যই সংগ্রহ করা যায় এখন। চলছে মোবাইল সাংবাদিকতার যুগ। গোয়েন্দাগিরির জন্য মফস্বলের সাংবাদিকদের দোষারোপ করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে নানা প্রতিষ্ঠান গোয়েন্দাগিরি করছে। এজেন্ট সারা দুনিয়ায় নানা গোপনীয় উপায়ে তথ্য সংগ্রহের জাল বিস্তার করেছে। গোপন ফাইল সংরক্ষণকারীদের ফাঁদে ফেলা কিংবা টাকার লোভ দেখিয়ে তথ্য হস্তান্তরের কাজ দ্রæত ও পুঙ্খানুুপুঙ্খ করতে ড়িঅত্যাধুনিক যন্ত্রের সহায়তা লাগেই। এজেন্টদের কাজে লাগিয়ে আ পাতা, বন্ধুত্ব করা, বাগিং করা, গোপন ক্যামেরা লাগানো এসব হল পন্থা। গোপনে জিপিএস দিয়ে কারও গতিবিধি মাপা অনৈতিক হলেও গুপ্তচরদের তা করতেই হয়। এসব গোয়েন্দাদের মত মফস্বলের সাংবাদিকরা এখনও পারদর্শী না হলেও হওয়ার চেষ্টা করছেন মনোনেশ দাসের মত সাংবাদিকগণ।
প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষে থাকা স্পাইওয়্যার পেগাসাস পৃথিবীর আলোড়ন সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রের অবৈধভাবে দখলকারী রাজনীতিবিদ, অগাধ কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজদের উপর এনরওয়েড বা আইফোনের ডিভাইজে রিমোট সার্ভেল্যান্স চালানোর পাওয়ার বাস্তবায়ন করেন। এরআগে অ্যাপের মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারন করে মেলওয়ার মোবাইলে ঢুকতে হলে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হতো। ক্লিক করতে হত কোনও ওয়েবপেজ খুলতে, কিংবা ডাউনলোড করতে হত কোনও অ্যাপ বা লিঙ্ক। পেগাসাস অনুমতিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে । যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে ভাগ্যই ভরসা।
মনোনেশ দাস বলেন, ময়মনসিহে সাংবাদিকতার বিচরণ ভ‚মিতে দেখেছি ক্রমশ ফুলে ফেপে বেড়ে উঠেছে দুর্নীতিবাজরা। ধাপে ধাপে তারা এগিছে চলেছে । ময়মনসিংহে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির শাখা আছে । আজ পর্যন্ত তাদের নিকট থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বা ময়মনসিংহ বিভাগের একজন দুর্নীতিবাজের নাম প্রকাশ করে বার্ষিক রিপোর্টে অনুয়াযী, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন দিতে দেখিনি। অথচ মফস্বলের সংবাদিকরা অসংখ্য দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। এজন্য অনেক সাংবাদিককে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এসব দুর্নীতিবাজদের কারনে য়েদেশের গণতান্ত্রিক মর্যাদা নি উদ্বেগ, মৌলিক স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে । আবার মফস্বলের মানুষের দু:খ, কষ্ট , লাভ ক্ষতি হল তা নিয়েও ভাবি আমরাই। শ্রমিক, কৃষক, মজুর, ক্ষুদ্র বিক্রেতা তাদের সংকট, সাফল্য ও প্রত্যাশা নিয়ে লিখি। গরু-বাছুর, হাঁস- মুরগি পালন, ধান, পাট, সরিষা, আলু, বেগুনের ফলন ভাল হয়েছে কিনা, বীজ তৈরিতে সমস্যা, মড়ক, নতুন চাষে সম্ভাবনা, সঠিক দাম পাচ্ছেন কিনা, চালকল মলিকদের দৌরাত্ম আছে কিনা , হয়রানির শিকার হয়েছেন কিনা । মাছ চাষে ভাগ্য বদল , সার ব্যবসায়ী, বীজ বিক্রেতা, সরকারী প্রনোদনা আরো কত রিপোর্ট । উদ্ভাবনীসহ আরো কত সংবাদ। এসব প্রান্তিক মানুষের মাঝখানে যে এনজিও শ্রেণি, যারা চার শতাংশে ঋণ দিয়ে ষোলো শতাংশ বুঝে নেন। তাদেরকে নিয়েও লিখার চেষ্টা করি। মফস্বলে জমি- জমা নিয়ে ঝগড়া ঝাটি, দাঙ্গা ফ্যাসাদ লেগেই থাকে । ঘটনা ঘটার পর পুলিশ আর সাংবাদিকরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন । পুলিশ জমির কাগজপত্রের বিবাদের সমাধান দিতে পানেন না । সমাধান মিলে আদালতে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন । এই জমি জমা নিয়ে সংবাদের জন্য সাংবাদিককে এবং মামলার এফআইআর এবং চার্জশীট ও আইও নিয়ে পুলিশকে দায়ি করেন ভ‚ক্তভোগীরা। সংকটের ম‚ল কারণ কি ? একটু গভীরে গেলেই বুঝি একই জমির দাবিদার অনেকে। উত্তর পাইনা যা তা হলো – জমির সিএস, আরওআর, বিআরএস আছে। দলিল আছে। সিএস স‚ত্রে যদি জমির মালিক হলেন । তার আগে ঐজমি কার ছিল। জানি জমির মালিক সৃষ্টিকর্তা। তিনি ত কাউকে লিখে দেননি। প্রান্তিক মানুষরা জানেন না যে, সোজা পথে বিচার-প্রতিকার পাওয়া সম্ভব অসম্ভব মিশে গেছে। সাত ডিক্রি এক দখল গ্রামের মানুষ ব্রিটিশদের মৌখিক আইন ডিগ্রি বুঝতে চান না। গ্রামের অনেকেই পেশি শক্তি , টাকা প্রদর্শন করে বিবাদ সৃষ্টি করেন।এই জমি জমার প্যাচে ফেলে কত প্রান্তিক মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক দলের নেতা নামধারী সমাজের এক ¤্রিেণর সুশীলরা। সাংবাদিকরা এদের চিহ্নিত করে সংবাদপত্রে প্রকাশের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এদের পাশাপাশি সরকারি কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা তাদের কালো টাকা ব্যাংকে রাখেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে কার এ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে জানতে চাইতে পারেন কি ? ওই টাকার উৎস কোথায় ? কালো টাকা ও উপার্জন স্বচ্ছ বা সাদা টাকার মালিকদের কিভাবে আমরা সংবাদে আনার চেষ্টা করি।
পৃথিবীতে এখন অনলাইন গণমাধ্যমের জয়জয়কার। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই । ময়মনসিংহে এর ভিন্নতা এখনও লক্ষ করা যায়। ময়মনসিংহ থেকে বেশকিছু অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ হয়। অপরদিকে প্রিন্ট পত্রিকা দৈনিক জাহান , আজকের খবর, আজকের বাংলাদেশ, দৈনিক স্বজন, দৈনিক মাটি ও মানুষ, আজকের ময়মনসিংহ, দৈনিক স্বদেশ সংবাদ, দৈনিক দিগন্ত বাংলা, দৈনিক কালের আলো, দৈনিক লোকলোকান্তর, জনতার কণ্ঠস্বর, দৈনিক হৃদয়ের বাণী, দৈনিক দেশের খবর, দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিনসহ আরো অনেক দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই স্থানীয় পত্রিকাগুলির পাঠক ময়মনসিংহ কেন্দ্রিক। অপরদিকে অনলাইন পত্রিকার পাঠক কেবল ময়মনসিংহে সীমাবদ্ধ নয়। সারা বিশ্বে। প্রিন্ট পত্রিকাগুলিতে পুরনো খবরের সম্ভার। তার পরও মানুষ কেন পড়ে তা বুঝতে বেশী কষ্ট হয় না। আমাদের ময়মনসিংহের পাঠকদের সংখ্যা অনেক যারা এখনও ইন্টারনেট প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হননি । অবসরপ্রাপ্ত লোকদের নির্ভর প্রিন্ট পত্রিকা। স্থানীয় প্রিন্ট পত্রিকাগুলির যে সুদিন তাও নয় , তাদের ম‚ল আয় কিছু বিজ্ঞাপন। আবার বড় আয় রিপোর্ট। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রতিবাদ ছাপিয়ে ভালো আয় হয় । এই আয় না হলে স্টাফদের খরচ উঠানো দু:সাধ্য হয়ে পড়ে।
একটি প্রিন্ট পত্রিকার সাথে জড়িত স্টাফের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কম করে হলেও ৫/৭ জন তারও বেশী। পক্ষান্তরে অনলাইন পত্রিকার স্টাফ ২/১ জন । আপডেট দেয়ার একজন আর সম্পাদক। তারপরও অনলাইন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ভালো চলতে পারেন না। কারো বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ হলে প্রতিবাদ প্রকাশ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি। অনলাইন পত্রিকাকে ময়মনসিংহে নেহায়েৎ হাসি তামাশার পত্রিকা বলে মনে করে থাকেন । এর জন্য প্রিন্ট পত্রিকা ওয়ালারাই দায়ী বলে মনে করা হয়। এমন ঘটনাও ঘটেছে , অনলাইন পত্রিকার খবর প্রিন্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছে। আবার অনলাইন পত্রিকাতেও আয়ের পথ খুব একটা নেই। অনেকে সাংবাদিকতার নেশায় পত্রিকা চালান ।
পত্রিকার নাম, সম্পাদক , প্রকাশের স্থানকাল যাই হোক না কেন তাঁদের ব্রত একটাই- কল্যাণকর আগামি। পত্রিকা প্রকাশের কত শত বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু প্রকাশ যন্ত্রণার মৌল প্রেরণা এখন অবিনাশি আনন্দময় সুখের উপমা। পত্রিকার নামটা বদলে যায়, তরুণদের চেহারাটা হয়তো ভিন্ন হয় কিন্তু থাকে হুবহু এক । হাজার বছর আগে অথবা পরে। ১৮৬৫ সালে ময়মনসিংহ থেকে (শেরপুর) ‘বিদ্যোন্নতি সাধিনী’ নামে মাসিক পত্রিকা বেরুত। শ্রীনাথ চন্দ্রের সম্পাদনায় ‘বাঙ্গালি’ নামে মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো ময়মনসিংহ শহর থেকে । এই শ্রীনাথ চন্দ্র ময়মনসিংহের সাহিত্য সংস্কৃতিতে প্রাণের জোয়ার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সময়ের সার্বক্ষণিক সাহিত্য কর্মীদের মতো ধূসর দ‚র অতীতে ছিলেন শ্রীনাথ চন্দ।
টাঙ্গাইলের ফুলবাড়ীতে জন্মগ্রহনকারী শ্রীনাথ চন্দ (১৮৫১- ১৯৩৮) ময়মনসিংহ ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বিদ্যাময়ী স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্রীনাথ চন্দ আনন্দ মোহন কলেজ স্থাপনেও প্রভ‚ত সহায়তা করেছিলেন। ১৮৭৫ সালে প্রকাশিত হতো ‘প্রমোদী’ ‘সুহৃদ’ ‘ভারত মিহির ’ ইত্যাদি পত্রিকা । মুক্তাগাছায় প্রকাশিত হতো ‘প্রমোদী’ মাসিক পত্রিকা। বাংলা ১২৮২ সালের আশ্বিন মাসে এই পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সুহৃদ সাপ্তাহিক পত্রিকাও মুক্তাগাছায় প্রকাশিত হতো। ১২৮২ সালের ১লা বৈশাখ পত্রিকাটির ১ম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিলো। প্রথম প্রকাশের ১২৩ বছর পর ঐতিহ্যের স্মারক চিহ্ন বুকে ধারণ করে ‘সুহৃদ ’ দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয় ১৪০৫ বঙ্গাব্দের ২রা পৌষ মুক্তাগাছা পৌর সাধারণ পাঠাগার থেকে । অনাথবন্ধু গুহের সম্পাদনায় ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রকাশিত হতো ‘ভারত মিহির’ । জানকীনাথ ঘটক, শ্রীনাথ চন্দ, আনন্দ চন্দ্র মিত্র , কবি দীনেশচরণ বসু, অমরচন্দ্র দত্ত প্রমুখ এই পত্রিকার নিয়মিত লেখকই শুধু ছিলেন না , নানা জনহিতকর কাজের সাথেও এই লেখকগোষ্ঠি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
১৮৭৬ সালে আমরা সাপ্তাহিক ‘বিশ্ব সুহৃদ’ পত্রিকার খোঁজ পাই । এটি ময়মনসিংহ শহর থেকেই প্রকাশিত হতো। ময়মনসিংহের সুসঙ্গ দুর্গাপুর থেকে প্রকাশিত হতো ‘ কৌমুদী’ পত্রিকা। ১৮৭৮ সালে এই পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন রুক্সিনীকান্ত ঠাকুর। রুক্সিনীকান্ত ঠাকুর ছিলেন পত্রিকা- পাগল মানুষ । তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত ছিল পত্রিকা সংগঠন, পত্রিকা প্রকাশনা ইত্যাদি । দুর্গাপুরের মহারাজা শিবকৃষ্ণ সিংহ এর মালিকানায় ‘আর্যপ্রভা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৮০ ইং সালে । এই পত্রিকারও সম্পাদক ছিলেন রুক্সিনীকান্ত ঠাকুর। ১৮৮১ সালের উলেযোগ্য দু’টি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ সুধারকর ’এবং চারুবার্তা’। প্রথমটি ময়মনসিংহ শহর ও দ্বিতীয়টি শেরপুর শহর থেকে প্রকাশিত হতো।
চারুবার্তার অন্যমত প্রধান লেখক কবি দীনেশ চরণ বসু ময়মনসিংহ সভার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর উলেখযোগ্য কব্য গ্রন্থ : মানস বিকাশ, কবি কামিনী, মহা প্রস্থান ইত্যাদি। বাসন্তী’ ছিল মাসিক পত্রিকা। ময়মনসিংহ শহর এর স‚তিকাগার। সম্পাদনা করতেন ব্রজনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ শতকের শুরুও দশকে কেদারনাথ মজুমদার লেখালখি, গবেষণা, পত্রিকা প্রকাশ, পুস্তক প্রকানা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ময়মনসিংহবাসীর সামনে যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন সেটি আজো আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করছে।
এতো গেল সংবাদপত্রের কথা। এই সংবাদপত্রের মূল চালিকাশক্তি আমরা সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদরে ঐতিহ্যের গহন গভীরে নিয়ে যায় যেখানে সভ্যতার শেকড় প্রোথিত। ঐতিহ্যের দায়ভার কাউকে না কাউকে গ্রহণ করতেই হয় । সময় মহিমার অশ্রু-ঘামে জীবন পুড়িয়ে মনোনেশ দাস দাদার মত আমরা সাংবাদিকরা সংবাদপত্রে লেখা পাঠাই। সংবাদ পৌঁছে দেই উত্তর প্রজন্মের হাতে।