1. accessinfotechlimited@gmail.com : admi2019 : Crime Talash 24
  2. eleas015@gmail.com : ILIAS HOSEN : ILIAS HOSEN
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

রাজাপুরে সংসার ও বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ যোগাতে তৃতিয় শ্রেনীর শিক্ষার্থীর হাতে ভিক্ষার বাটি!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৭৫ বার পঠিত
ই - পেপার দেখুন
ই - পেপার দেখুন

 

রাজাপুর প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরের মডেল পাইলট ইচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শেনীর শিশু শিক্ষার্থী মোঃ রমজান তাদের অভাবি সংসার , অসুস্থ্য বাবা-মায়ের ও নিজের চিকিতসার খরচের যোগান দিতে হাতে কলমের পরিবর্তে ভিক্ষার ঝুলি তুলে নিয়েছে বলে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে রমজান ও তার বাবা মোঃ জাহাঙ্গির খান উপস্থিত হয়ে এসব কথা বললেন। জাহাঙ্গির খান আরো জানান, তাদের বাড়ি ছিলো উপজেলার বাদুর তলা গ্রামের বিষখালি নদীর তীরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পরে তাদের মাথা গোজার ঠাই টুকু গ্রাসকরে নিলো নিষ্ঠুর বিষখালি নদী। তখন জাহাঙ্গিরের জন্ম হয়নি। তাদের ঘরের জমিটুকু ছাড়া আর কোন জমি ছিলো না। তখন তার বাবা কাশেম খান তার মা রজিনা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে দিন মজুরের কাজ করতেন অথবা রিক্সা চালাতেন কাশেম খান। কিছু দিন পরে তাদের ঘরে জন্ম হলো জাহাঙ্গিরের। একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থেকে কঠোর পরিশ্রম করে তিনটি মুখের আহার জোগার করতেন কাশেম খান। দির্ঘদিন পরে কাশেম মারা যান। জাহাঙ্গির তার মা রজিনাকে নিয়ে রাজাপুরে ফিরে আসেন। জাহাঙ্গির উপজেলা সদরে ভাড়া থাকতেন এবং তার বাবার মতোই রিক্সা চালাতেন। সে রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ এলাকায় মতিউর রহমানের মেয়ে হাফিজাকে বিয়ে করেন। অভাবের সংসার হলেও দিন মজুরের কাজ ও বেশিরভাগ সময় রিক্সা চালিয়ে ছোট সংসার ভালোই চলছিলো। ইতো মধ্যে তার ঘরে জন্ম নেয় রমজান। জাহাঙ্গিরের বয়স বর্তমানে চল্লিশের কোঠায়। দুই বছর আগে থেকে মাথা ব্যাথা, শ্বাস কষ্ট ও বুকে ব্যাথা দেখা দেয় জাহাঙ্গিরের। উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় তার। মানুষের কাছ থেকে সাহায্যের টাকা তুলে ছোট খাটো ডাক্তার দেখাতে থাকেন। মাথার ছিটি স্ক্যান করান তিনি। কোন উপকার না পেয়ে বুকের সমস্যার জন্য মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যান তিনি। সেখানের ডাক্তার ভর্তি করতে চাইলে তিনি আনুসাঙ্গিক খরচ এবং কে থাকবে সাথে বিভিন্ন চিন্তা করে ভর্তি না হয়ে ঔষধ লিখিয়ে আনেন। এদিকে সংসারের অভাব তীব্রভাবে দেখা দিলে তার মা রজিনা বেগম চলেযান সেই ঢাকার চির চেনা যায়গায়। ষাট বছরের রজিনা ক্ষুধার তাড়নায় বেছে নেন ভিক্ষার পথ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও ভিক্ষা করে মাঝে মধ্যে জাহাঙ্গিরকে সামান্য টাকাও পাঠান মা রজিনা। ইতোমধ্যে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী হাফিজা বেগম ষ্ট্রোক করে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেয়ে শারিরীক প্রতিবন্ধি হন। জাহাঙ্গির কোন কাজ করতে পারেননা। অর্থাভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছেননা। স্ত্রী হাফিজা প্রতিবন্ধি হওয়ায় কোন কাজ করতে পারছেননা। সে স্বামী ও সন্তানের মুখে আহার তুলে দিতে বেছে নিয়েছেন ভিক্ষার পথ। হাফিজার নামে একটি প্রতিবন্ধি কার্ড করা হয়েছে। তিন মাস পর পর ২ হাজার ২৫০ টাকা করে পাচ্ছেন। স্বামীকে মোটা মুটি সুস্থ্য রাখতে হলে প্রতিদিন তার জন্য ১শত টাকার ঐষধ প্রয়োজন। মাঝে মাঝে কিনতে পারেন আবার অর্থাভাবে মাঝে মাঝে ঔষধ না খেতে পেরে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। সন্তান রমজান রাজাপুর মডেল পাইলট বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পরীক্ষা দিয়েছিলো। ২০২০ সালে করোনার কারোনে বিদ্যালয় যাওয়া হয়নি। তার কাছে রোল নাম্বার জানতে চাইলে ১১/১২ হবে বলে জানান। তবে পকেট থেকে ওই বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড বের করে দেখান। কার্ডে লেখা রয়েছে ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেনীতে তার রোল নং ছিলো ১৩ । রমজান বলেন, আমি নিজেও বর্তমানে শ্বাস কষ্টে ভুগতেছি। আমার কপালে আর লেখা পড়া সইলনা। অর্থাভাবে ঔষধ কেনার কষ্ট, খাবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়েছি। প্রতি দিন ভিক্ষা করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পাই। সে টাকা এনে মা-বাবার হাতে তুলে দেই। জাহাঙ্গির বলেন, আমার সন্তানটি না থাকলে কারো কাছে হাত পাততাম না। মানুষ মরণশীল, তাই ধুকে ধুকে মারা যেতাম। কিন্তু আমার কষ্ট দেখে আমার ছেলেটি ও স্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়েছে। ছেলেটি ও অসুস্থ্য। আমাদের চিকিৎসা ও দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য দেশের ধনবান মানুয়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জাহাঙ্গিরের বিকাশ ফোন নাম্বার ০১৭০১৭৫৩৯৭৭।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Crimetalash24.com
Customized By SuperSoftIT
themesbazcrimetala121