উলিপুরে নতুন প্রজন্মের তরুণ কবি মোল্লা উমর
রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম জেলাপ্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী কামাল খামার গ্রামের নতুন প্রজন্মের তরুণ কবি মোল্লা উমরের জন্ম। বাবা নূর ইসলাম পেশায় সাইকেল মেকার। স্থানীয় তেঁতুল তলা বাজারে ছোট একটি দোকান। দু’হাতের উপর সংসার তাঁর। বাড়িতে ৩ ভাই-বোনের সর্ব কনিষ্ঠ মোল্লা উমর। মা ফাতেমা বেগম সহ ৫ সদস্যের অভাবী পরিবার তাদের। মোল্লা উমর বাল্যকাল থেকে দৈনন্দিন বাবার মেকারী কাজে সহযোগীতা এবং কামাল খামার ফাজিল (ড়িগ্রী) মাদ্রাসা অধ্যায়ন করে বিগত ২০১৯ইং সালে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেন। বর্তমান তিনি কুমিল্লা পলিটেকনিকেল ইনস্টেটিউটে পাওয়ার বিভাগে ২য় সেমিষ্টারে অধ্যায়ন রত। বাবার অভাবী সংসারে লেখা-পড়ার খরচ অতিবো কষ্টে চালিয়ে আসছেন। মোল্লা উমর বাল্যকাল থেকে খেলা-ধুলায় তেমন পারোদর্শি না হলেও বাংলা সাহিত্য চর্চায় খুবই আগ্রহী। তাই সংসারের অভাব-অনটন তাঁর অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে হার মানাতে পারেনি। প্রতিদিন বাবার মেকারকর্মে সহযোগীতা ও স্কুল পাঠে ব্যস্থতায় থেকেও নিঃস্তব্ধ রজনীতে তাঁর মনের ভিতরকার সাহিত্যের ফুল ঝুড়ি বেড়িয়ে এসেছে। গোধুলীলগ্ন থেকে সারা রাত কেটে যায় ব্যাকুল হৃদয়ের বাংলা কবিতা ও গল্প লিখতে। প্রতিভাময় এই তরুণ কবি আর্থিক ভাবে দেশ ও সমাজকে কিছু দিতে না পারলেও লেখনির মাধ্যমে দিতে চান। কবির হাতে লেখা দু’টি ছন্দময় কবিতা তাঁর মুখে ফুঁটে এসেছে এভাবে, ‘বাতাসের শির-শিরে, গা ওঠে শিউরে। কে হাকে-কে হাকে, আছে না-কি কেউরে?” অথবা “আগাও-আগাও তুমি সামনে আগাও। ভুল করে একবারো পিছে না তাকাও। আছে যতো মনে শক্তি তোমার, জাগাও। আগাও-আগাও তুমি সামনে আগাও।” এ রকম অসংখ্য কবিতা ও গল্প তাঁর পান্ডুলিপীতে শোভা পাচ্ছে। তাঁর অনন্য লেখা-লেখিতে স্থানীয় সুধিজন ও শিক্ষক-স্কুল কর্তৃপক্ষগণ উৎসাহিত করেছেন। কবি বলেন,‘এ পর্যন্ত তিনি ৮ শতাধিক কবিতা লিখেছেন’। যা টাকার অভাবে সে গুলো তিনি বই আকারে প্রকাশ করতে পারেন নি। আগামী অমর একুশে/২০২১ইং সালের বই মেলায় স্ব-রচিত “বাংলার আলো” নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কবি। সে জন্যে অর্থিক ভাবে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বায়ন জানিয়েছেন দাতব্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হৃদয়বানদের প্রতি