সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা’ই সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় ইসলামী সমাজ এর উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ যুবরাজ খান সবুজঃ
সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা’ই সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় ইসলামী সমাজ এর উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ
১১ডিসেম্বর ২০২২ (রবিবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় রাজধানীর পল্লবী ১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূরী কমিটি সেন্টার ইসলামিক সমাজ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। দেশে চলমান সংঘাতময় অবস্থার কারণ এবং এ থেকে বাঁচার উপায়, বিষয়ে ইসলাম সমাজ। এর উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠানটি পরিচালকঃ মোস্তফা জামিল সাদ,সহকারী দায়িত্বশীল ইসলামিক সমাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, কুরআন তেলাওয়াত, ইসলামী সমাজ এর সদস্য জনাব হাফেজ ও ওবায়দুল্লাহ। এবং প্রধান বক্তা হযরত সৈয়দ হুমায়ুন কবির-আমীরঃ ইসলামী সমাজ। সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠাই সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র বাঁচার উপায়। আমীর, ইসলামী সমাজ। ইসলামী সমাজের আমির হযরত সৈয়দদ হুমায়ুন কবীর বলেছেন,সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন পরিচালনায় ” মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন -বিধান কর্তৃত্ব”ই জীবনের মূল সমস্যা। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে ইসলামের পরিবর্তে পরিচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় বিশ্ববাসীর মানুষের সার্বভৌমত্ব আইন বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে বন্দী হয়ে আছে,যার কারণে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে অর্থ-সম্পদের মোহ এবং ক্ষমতা অধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানুষ মানুষের সংঘাত ও সংঘর্ষ চলছে, ক্রমে ক্রমে সংঘাত ও সংঘর্ষের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে । তিনি বলেন, মানুষ তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন- বিধানক কর্তৃত্ব মেনে মানুষের মনগড়া আইনের অনুগত্যের মাধ্যমে মানুষের দাসত্ব করার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আজব গজবের স্বীকার হয়ে দুর্ভাগ্য অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাদের আখিরাতের জীবন মহা ক্ষতি হবে। জনাব মোস্তফা জামিল সাদ এর সঞ্চালনায় ” দেশে চলমান সংঘাত ময় অবস্থার কারণ কে বাঁচার উপায়”বিষয়ে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্য সংগঠনের আমীর বলেন,সার্বভৌমত্ব আইন – বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব, একমাত্র আল্লাহর,মানুষের নয়। এটাই মহাসত্য, এটাই রাজনীতির মূল বিষয়। মানব রচিত চরম দুর্নীতি একমাত্র উল্লেখ্য করে বলেন করে বলেন বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে রাজনীতির নামে দুর্নীতি চলছে। বাংলাদেশের রাজনীতি নেই আছে দুর্নীতি। গণতন্ত্র সহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা চরম জনের তুল্য করে তিনি গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের জীবন সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। গণতন্ত্র দেশবাসীর বিভিন্ন দলে – উপদলে বিভক্ত করে সংযাত ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গণতন্ত্রের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধীরা ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের মুখোমুখি অবস্থান করছে। উভয়পক্ষ দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের নৈরাজ্যের কারণে মানুষের জীবনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বেড়ে চলছে এবং সাধারণ মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে। দেশ ও জাতির এহেন নামক পরিস্থিতি এবং সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহর নির্দেশিত ও তার ওই রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে মানব রচিত ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রদত্ত ব্যবস্থা ইসলামের আইন – বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামী সমাজের নেতা ও কর্মীগণ গণতন্ত্র সহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন এবং সকল প্রকার সন্ত্রাস ও উগ্রবাদদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেই ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানদার ও সৎকর্মশীল লোক গঠন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল – মত নির্বিশেষে সকলের জন্য ‘ইসলামী’ সমাজ’ নীরাপদ আশ্রয়স্থল একথার করে তিনি সকলকে ইসলামিক সমাজে সামিল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানি, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান। শান্তি সমাবেশের আরো বক্তব্য রাখেন – সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল,(১) ঢাকা বিভাগ অঞ্চল ২ এর দায়িত্বশীল জনাব মোঃ ইয়াসিন,(২) মোঃ নুর উদ্দিন, (৩)মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বরিশাল বিভাগ। (৪)ঢাকা উত্তর সিটির দায়িত্বশীল মিনহাজ উদ্দিন,(৫)জামালপুর জেলার দায়িত্বশীল আব্দুর রশিদ (৬) মাগুরা জেলার দায়িত্বশীল জনাব রানা ইসলাম ও ইসলামী সমাজ সদস্য,জনাব জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।