August 30, 2026

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা চলছে দৌলতপুরে

0
337463132_253192937083997_5834777725551431801_n

মোঃ রেজাউল করিম লিটন, স্টাফ রিপোর্টারঃ মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নে চলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এর মধ্যে রয়েছে বাচামারা ইউনিয়নের যমুনা নদীর পাড় ঘেঁষে ড্রেজার দিয়ে ২৪ ঘন্টা চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাতেই এসব বালু চলে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রামের বসতভিটার কাজে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের তিন কোটি টাকা ব্যয়ে(জি,ও) ব্যাগ দিয়ে নির্মিত ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প। আজ শনিবার ৮ এপ্রিল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বাচামারা ইউনিয়নের বাজারের সন্নিকটে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় চলছে ড্রেজার ( বালু উত্তোলনের যন্ত্র) দিয়ে বালু কেটে বিভিন্ন স্হান ভরাটের কর্মযজ্ঞ। গতবছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ দিয়ে নদী রক্ষার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড়ের ফসলি জমি, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাঙনের হুমকিতে পরছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা নদীর পাড়েই রয়েছে ৮টি ড্রেজার। প্রতিবছরই নদী ভাঙনের ফলে এসব এলাকার ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন ঠেকাতে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে প্রতিবছরই বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন আরোও তীব্র আকার ধারন করবে। অবৈধ ড্রেজার যেখানে বসানো হয় সেখানে গভীর কুপের মতো তৈরী হয় বর্ষা আসামাত্র পাশের সব বালু ধসে পড়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে স্থানীয়রা জানান, বাচামারা ইউনিয়নের রওনাই মেম্বার, মীরহোসেন, আজিজ সহ অনেকে ভাঙন কবলিত নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে দিনে ও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু কেটে চড়া মূল্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। জানতে চাইলে ড্রেজারের চালক রওনাই বলেন, আমার ড্রেজার সরকারি কাজে চলে । কিছু দিন যাবৎ বালু কাটছি। নদীর মাঝে চরের পাশ থেকে বালু কাটি। সরজমিনে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অনেক দিন যাবত ড্রেজার এখানে আনা হয়েছে। দিনে রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। অবৈধভাবে এই ড্রেজিং এর ফলে এলাকায় ভাঙন আরও বাড়বে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাচামারা গ্রামের এক ছাত্র বলেন, অনেকদিন যাবত ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। বাচামারা গ্রামের সিদ্দিক বলেন, এমনিতেই প্রতিবছর নদীতে জমি ভেঙ্গে নিয়ে যায় । অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের নদী পাড়ের মানুষের যে কি কষ্ট তা তো ড্রেজারওয়ালারা বুঝতে পারবে না তারা বালু বিক্রি করে মুনাফা নিয়েই চমপোট দেয়। সরজমিনে আরোও ৫টি চলন্ত ড্রেজার পাওয়া গেলেও সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখে ড্রেজার চালকরা তাৎক্ষণিক ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ ড্রেজার চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। যমুনা নদীর ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে একমাস আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *