July 27, 2026

মডেল থেকে সরলেও আইকনিক মসজিদে অর্থায়নে রাজি সৌদি আরব

0
মডেল মসজিদ

দেশের উপজেলা পর্যায়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদে অর্থায়ন থেকে সরে গেলেও নতুন ৯টি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব। এসব আইকনিক মসজিদের একটি হবে রাজধানীর পূর্বাচলে; বাকি আটটি বিভাগীয় শহরগুলোয়।

দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সৌদি আরবের রিয়াদের ডিজিটাল সিটিতে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দুই দিনের ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান। সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার আবদুল্লাহ বিন নাসের বিন মোহাম্মদ আবুথনাইন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেইসি সভায় আইকনিক মসজিদ নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, পূর্বাচলে একটি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন। দ্বিতীয়ত, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন। তৃতীয়ত, সারা দেশে চলমান ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা।

আলোচনা শেষে সৌদি আরব ৯টি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নে সম্মত হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে চলমান মডেল মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি সৌদি আরব।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইকনিক মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে সৌদি সরকার সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে আলাদা করে সমঝোতা স্মারক সই হবে দুই দেশের মধ্যে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) আউয়াল হাওলাদার  বলেন, ‘আইকনিক মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকার বাংলাদেশকে অর্থায়ন করবে বলে জানিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে মসজিদ নির্মাণের স্থান চূড়ান্ত করে এ–সংক্রান্ত প্রকল্প সৌদি আরবে পাঠিয়েছি। নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে। দেশটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে।’

জেইসি সভায় অংশ নেওয়া এক প্রতিনিধি জানান, চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মডেল মসজিদ নির্মাণ বাবদ কাঙ্ক্ষিত টাকা বরাদ্দ দিতে পারছে না সরকার। সে কারণে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, এবারের জেইসি সভায় দুই দেশের মধ্যে ‘এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম’ নামের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল; যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে আগামী বছরের মধ্যে চুক্তিটি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি হলে এ দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাদে অন্য চিকিৎসক ও নার্স সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে দুদিনের বৈঠকে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘ইনস্টলেশন অব ইআরএল ২’ নামের একটি প্রকল্পে সৌদি আরবের অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে জ্বালানি তেলের পরিশোধনক্ষমতা বাড়বে। সৌদি সরকার এই প্রকল্পের অর্থায়নে রাজি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed