দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ব্যাংকে ক্লার্ক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন ইউনা (ছদ্মনাম)। অফিসের প্রথম দিনেই তাঁকে যে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি কোনোভাবেই প্রত্যাশা করেননি।

শুরুতে তাঁকে তাঁর টিমের জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করতে হয়েছিল। এরপর তাঁকে পুরুষ শৌচাগার থেকে তোয়ালে নিয়ে তা বাড়ি থেকে ধুয়ে পরিষ্কার করে আনতে বলা হয়েছিল।
প্রথম দিকে এসব কাজ ইউনা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বসকে বলেছিলেন, পুরুষেরা কি নিজের তোয়ালে পরিষ্কার করে আনতে পারেন না। এর জবাবে বস জানিয়েছেন, ‘আপনি কীভাবে প্রত্যাশা করেন যে পুরুষেরা তোয়ালে পরিষ্কার করবে?’
ইউনা বলেন, তিনি খুব রাগান্বিত হয়েছিলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমি যদি লড়াই চালিয়ে যাই, তাহলে আমাকে আরও বেশি হয়রানি করা হবে। তাই তোয়ালে ধোয়া শুরু করে দিই।’ এরপরও অভিযোগ করেছিলেন বলে ইউনাকে অফিসে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।
পরে ইউনা সবকিছুর ভিডিও ও ছবি তুলে প্রমাণসহ সরকারের কাছে ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন।
অফিসে দিনে দিনে ইউনার প্রতি হয়রানি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অন্য নারী সহকর্মীদের অধিকাংশের বয়স ২০-এর কাছাকাছি। তাঁরাও তাঁকে এসব ব্যাপারে সমর্থন জানাননি। উল্টো নারী সহকর্মীরা তাঁকে সতর্ক করে বলেছেন, সব জায়গাই এ রকম। তাই কোনো ঝামেলা করবেন না।
দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা হয়রানিতে
দক্ষিণ কোরিয়া সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে দ্রুত রূপান্তরিত হওয়ায় ইউনার মতো দেশটির নারীরা পিছিয়ে পড়েছেন। দেশটিতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড়ে এক-তৃতীয়াংশ কম বেতন দেওয়া হয়। রাজনীতি থেকে শুরু করে অফিস পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেন পুরুষেরা। দেশটির সরকারি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে নির্বাহী পদে আছেন মাত্র ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। নারীরা ঘরকন্যার কাজ ও বাড়িতে শিশুর দেখভাল করবেন—এমনটাই এখনো ভাবা হয়। শুধু তা–ই নয়, এর সঙ্গে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানির বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বিকাশমান প্রযুক্তিব্যবস্থার কারণে অনলাইনে যৌন হয়রানির মতো ঘটনা বাড়ছে।
এসব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরিবর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল বলেছেন, কাঠামোগত যৌনতা ‘পুরোনো বিষয়’।
ইউন সুক-ইওলের ক্ষমতায় আসার পেছনে তরুণসমাজের অবদান অনেক। অথচ তরুণসমাজের এখন অভিযোগ, বৈষম্য কমানোর বদলে নতুন সরকারের দ্বারা তাঁরা আরও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
Leave a Reply