1. accessinfotechlimited@gmail.com : admi2019 : Crime Talash 24
  2. eleas015@gmail.com : ILIAS HOSEN : ILIAS HOSEN
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

চাহিদার তুলনায় চাল ও আটার বিক্রি অপ্রতুল। কড়াইল বস্তিতে ওএমএসের ট্রাক এলেই লাগে হুড়োহুড়ি।

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৩০ বার পঠিত
ই - পেপার দেখুন
ই - পেপার দেখুন

চাহিদার তুলনায় চাল ও আটার বিক্রি অপ্রতুল। কড়াইল বস্তিতে ওএমএসের ট্রাক এলেই লাগে হুড়োহুড়ি।

রাজধানীর মহাখালী এলাকার কড়াইল বস্তিতে কমবেশি ৪০ হাজার পরিবারের বসবাস। এ হিসাব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। এক পরিবারে চারজন করে সদস্য ধরলে এ বস্তিতে বসবাস দেড় লক্ষাধিক মানুষের। এঁদের সবাই নিম্ন আয়ের। অস্বাস্থ্যকর ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস এসব মানুষের। এসব মানুষের খাওয়ার খরচের বড় অংশই ব্যয় হয় চাল কেনায়। তাই বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সংকটে পড়েছেন এই বস্তির বাসিন্দারা।

এদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি দামে চাল-আটা বিক্রির উদ্যোগ নেয়। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওপেন মার্কেট সেল বা ওএমএসের ট্রাকের মাধ্যমে রাজধানীর ৭০টি স্থানে বিক্রি করা হয় এ দুই পণ্য। তবে কড়াইল বস্তি এলাকায় ওএমএসের ট্রাকে পণ্য বিক্রির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। সপ্তাহে ছয় দিনে এক ট্রাক করে ওএমএসের চাল-আটা বিক্রি হয় এই বস্তি এলাকায়। দুই স্থানে তিন দিন করে ছয় দিন এসব ট্রাক যায়। প্রায় অর্ধলক্ষ পরিবারের চাহিদার তুলনায় যা খুবই নগণ্য।

ওএমএসের ট্রাক থেকে একজন মানুষ দিনে পাঁচ কেজি চাল ও দুই কেজি আটা কিনতে পারেন। পূর্ণবয়স্ক চার সদস্যের একটি পরিবারে দিনে দুই বেলা ভাতের জন্য কেজি দেড়েক চাল লাগে। বস্তি এলাকার বেশির ভাগ মানুষ পেটভরে ভাত খান। তাই পাঁচ কেজি চালে একটি পরিবারের তিন দিনের মতো যায়।

আগে তো এত লোক হতো না। এখন প্রতিদিনই লোক বাড়ছে। তাই ওএমএসে চাল ও আটার বরাদ্দ বাড়াতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।

                                                                                  >সুরাইয়া খাতুন, প্রধান নিয়ন্ত্রক, ঢাকা রেশনিং দপ্তর

গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কড়াইলের বেলতলা এলাকায় ওএমএসের ট্রাকের সামনে দেখা যায়, চাল-আটা কেনার জন্য কয়েক শ মানুষের হুড়োহুড়ি লেগেই ছিল। পণ্য কেনার সারিতে দাঁড়ানো ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে তিন দিন বেলতলা এলাকায় ওএমএসের ট্রাক আসে। দিনে এক ট্রাক পণ্য বিক্রি হয়। প্রতি ট্রাকে থাকে দুই হাজার কেজি চাল ও এক হাজার কেজি আটা। তাই পণ্য কিনতে ভোর থেকে লোকজন জড়ো হন ট্রাকের লাইনে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ট্রাকে পণ্য কম থাকে বলে সবাই কিনতে পারেন না। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহের আরও তিন দিন কড়াইলের বস্তি এলাকার মানুষ ওএমএসের পণ্য পান। পল্লিবন্ধু এরশাদ বিদ্যালয়ের মাঠে ওই তিন দিন ওএমএসের ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হয়। দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ পরিবার চাল পায়। আর আটা পায় ৫০০ পরিবার। সেই হিসাবে বস্তির মোট ২ হাজার ৪০০ পরিবার সপ্তাহে ছয় দিন চাল পাওয়ার কথা। আর ৩ হাজার পরিবারের আটা পাওয়ার কথা। তাতে ওই বস্তি এলাকার পরিবারের মধ্যে সপ্তাহে পণ্য পায় মাত্র ৬ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ পরিবার। কিন্তু বাস্তবে এ ঘটনা ঘটে না। কারণ, কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা ছাড়াও ওএমএসের ট্রাক থেকে আশপাশের বাসিন্দারাও পণ্য কেনে।

তাই কড়াইল বস্তির মানুষের মুখে ওএমএসের পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। স্থানীয় বাসিন্দা গাড়িচালক সোহেল আহমদ

বলেন, ‘এখানে চাল-আটা যেটুকু দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই প্রতিদিনই অনেকে চাল-আটা না পেয়ে খালি হাতে ফেরেন।’

কড়াইল বস্তির একাধিক বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দামের চাপে তাঁরা পিষ্ট। বেশির ভাগ পরিবারই চলে দিন এনে দিন খেয়ে। তাই সরকারের ভর্তুকি মূল্যের চাল ও আটা কিনতে লম্বা সারি থাকে ওএমএসের ট্রাকের সামনে।

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা হিমানী আক্তার। মধ্যবয়সী এই নারীর দাবি, দেড় মাস ধরে কড়াইলে আসা ওএমএসের ট্রাক থেকে চাল ও আটার কেনার চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম আলোকে হিমানী আক্তার বলেন, ‘ঘরে বাচ্চা আছে। কাজ আছে। তাই সকাল থেকে পুরোটা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। এ জন্য আমি পণ্য পাই না।’

চলতি মাসের ১১ দিনে কড়াইলের বেলতলায় চার দিন ও এরশাদ স্কুলের মাঠে তিন দিন ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ১১ দিনে ৭ দিন, ৭টি ট্রাক এই বস্তিবাসীর কাছে পণ্য বিক্রি করেছে। নভেম্বর মাসে এই দুই স্থানে ৩২টি ট্রাক পণ্য বিক্রি করেছিল।

জানতে চাইলে ওএমএসের দায়িত্বে থাকা ঢাকা রেশনিং দপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন  বলেন, ‘আগে তো এত লোক হতো না। এখন প্রতিদিনই লোক বাড়ছে। তাই ওএমএসে চাল ও আটার বরাদ্দ বাড়াতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।’

বাজারে চাল ছাড়া আটা, ময়দা, ডাল, চিনি, সয়াবিনসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম চড়া। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে পণ্যের দাম। তাতে গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৩৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠে যায়। অবশ্য নভেম্বরে তা কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে এখনো স্বস্তি নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Crimetalash24.com
Customized By SuperSoftIT
themesbazcrimetala121