August 28, 2026

মরুর বুকে মেসিদের শোচনীয় পরাজয় ।

0
001

একদিকে জয়ের উৎসব অন্যদিকে পরাজয়ের হতাশা সৌদি আরবের কাছে হেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মেসিরা, শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সৌদি ফুটবলাররা।

টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত! লিওনেল মেসি-ডি মারিয়াদের পারফর্মেন্সও ছিল তুঙ্গে। তাই হট ফেভারিটের ট্যাগ গায়ে মেখেই কাতারে পৌঁছে আর্জেন্টিনা। এবার ৩৫ বছরের আক্ষেপ ঘুচাবেন লিওনেল স্কালোনির দল। শুধু আর্জেন্টিনা নয় বরং এমন স্বপ্নে বিভোর গোটা দুনিয়ার মেসি ভক্তরা! কিন্তু শুরুতেই তাদের সেই স্বপ্নে বড় ধাক্কা উপহার দিল সৌদি আরব। মঙ্গলবার তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। আর তাতেই মেসির শেষের শুরুটা হলো হতাশার রঙে।

লুসাইল স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা-সৌদি আরব। ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রভাব বিস্তার করে খেলে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় মিনিটেই মেসির বাঁ পায়ের দারুণ এক শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন সৌদি আরবের গোলরক্ষক আল ওয়াইসেস। চেষ্টা চালিয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। প্রথমার্ধের নবম মিনিটেই ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের মধ্যে লিয়ান্দ্রো প্যারেদেসকে ফেলে দেন আল বুলাইহি। ভিএআর চেক করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

কিক নেন ৭ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি। কৌশলগত শটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে খুব সহজেই পরাস্ত করেন এলএম টেন। সেইসঙ্গে শেষের শুরুটাও দারুণ করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই সুপারস্টার। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ১০ মিনিটেই গোল করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন তিনি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল করল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়েও লড়াই চালিয়ে যায় সৌদি আরব। নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখে স্কালোনির দল।

ম্যাচের ২২ মিনিটে আরও একবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান মেসি। কিন্তু লাইন্সম্যান আগেই ফ্ল্যাগ তুলে জানিয়ে দেন অফসাইড। ২৮ মিনিটেও একই চিত্রনাট্য! লওতারো মার্টিনেজ গোল করলেও ভিএআরে দেখা যায় সেটাও অফসাইড। ৩৪ মিনিটে আরও একবার সৌদি আরবের জালে বল জড়ায় আর্জেন্টিনা। এবারও আগেই সাইড রেফারি ফ্ল্যাগ তুলে অফসাইডের সংকেত দেন। গোল বাতিল হয়ে যায়। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মেসি-মার্টিনেজরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধেই জ্বলে উঠে সৌদি আরব।

৪৮ থেকে ৫৩ মাত্র এই ৫ মিনিটের ঝড়েই যেন বিধ্বস্ত হয়ে যায় আর্জেন্টিনা শিবির। দারুণ এক গোল করে ৪৮ মিনিটেই সৌদি আরবকে সমতায় ফেরান সালেহ আল-শাহরানি। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা বল দারুণভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের জালে পাঠান তিনি। সমতায় ফিরে দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠে হার্ভে রেনার্ডের শিষ্যরা। প্রথম গোলের উচ্ছ্বাসের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয়বার আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান সালেম আল দাওসারি।

৫৩ মিনিটে পুরো বিশ্বকেই অবাক করে গোল করেন তিনি। এরপর দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে থাকে। এই সময়ে কয়েকবারই গোলের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই সময়ে মেসি-মারিয়া-মার্টিনেজদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান সৌদি আরবের গোলরক্ষক আল ওয়াইসেস। এই ম্যাচে দুর্দান্ত ৫টি সেভ করেন তিনি। যা এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভ করার রেকর্ড।

মূলত তার এমন নজরকাড়া পারফর্মেন্সের ওপর ভর করেই আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজেয় যাত্রার সমাপ্তি ঘটায় সৌদি আরব। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্কালোনির দল হেরেছিল ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচের পর সৌদি আরবে এসে থামল তাদের জয়যাত্রা। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটতে থাকা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের এমন জয়ের নেপথ্য নায়ক হার্ভে রেনার্ড। বিশ্বকাপের মিশন শুরুর আগেই যিনি ‘আমরা পিকনিকের জন্য আসিনি’ বলে রীতিমতো হুংকার দিয়েছিলেন।

দুর্বার গতিতে ছুটতে থাকা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যেন সেই কথার প্রমাণও দিলেন তার শিষ্যরা। ২০১২ সালে জাম্বিয়ার কোচ হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন এই রেনার্ড। ২০১৫ সালে আইভোরি কোস্টকেও আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স জিতিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়? তার অধীনেই ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল মরক্কো। এবার কাতার বিশ্বকাপের শুরুটাও করলেন চমকে দিয়ে।

এবারের বিশ্বকাপে যে দল সবচেয়ে ফেভারিট সেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই জয় উপহার দিলেন সৌদি আরবকে। তাও আবার শুরুতেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। সত্যিই অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় সোনার হরফে লেখা থাকবে এমন সুন্দর জয়ের গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *