সংবাদপত্রের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ভুলত্রুটি আপনারা তুলে ধরবেন। সে সঙ্গে বিশ্বমন্দার মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টরা যে দেশের প্রশংসা করেছেন, সেটি অনেক সময় বড় আকারে পত্রিকায় আসে না। আমরা এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা চাই।’
ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে গতকাল বুধবার মতবিনিময় সভা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হাছান মাহমুদ।
বাসস জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর দেশে রাজনৈতিক দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল। ইনডেমনিটি জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়। আমরা জাতীয় দিবসে যেতে পারিনি। খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলা ভাই সৃষ্টি করা হয়। সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়।’
বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদের ঘরে গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে কীভাবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কেন তাদের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা তুলে দিয়েছিল। ৭ ধারা অনুযায়ী কোনো দুর্নীতিবাজ, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবে না। বিএনপি সেটি তুলে দিয়ে দুর্নীতিবাজ সাজাপ্রাপ্তদের দলে রেখেছে।
আমাদের ভুল আছে, তারপরও আমরা দেশের জন্য কাজ করছি—উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতিতে বিরোধিতা থাকবে; কিন্তু আমরা হত্যার রাজনীতি করি না। বিএনপির সঙ্গে পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছি না। দলের সম্মেলন সামনে রেখে কাজ করছি। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চর্চা করে।’
সভার আমন্ত্রক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের সহায়তা ছাড়া বহুমাত্রিক সমাজব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, বিতর্ক এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার ভিত গভীরে প্রোথিত হয় না। সেই ধরনের সমাজ নির্মাণ করতে আপনাদের সহায়তা আমরা চাই।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই অবশ্যই আমাদের ভুলত্রুটি আপনারা তুলে ধরবেন। কিন্তু সে সঙ্গে আজকে যে দেশটা বদলে গেল, এই বৈশ্বিক মহামারি, পৃথিবীময় যুদ্ধাবস্থা, বিশ্বমন্দার মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট যে দেশের প্রশংসা করে, সেটি অনেক সময় বড় আকারে পত্রিকায় আসে না। কিন্তু কেউ একজন একটি নেতিবাচক কথা বললে সেটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় আকারে পত্রিকায় আসে কিংবা টেলিভিশনে উপস্থাপিত হয়। আমরা এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজে গণমাধ্যমবান্ধব, তার সরকার গণমাধ্যমবান্ধব, আর সে জন্যই এ সরকারের সময় দেশে গণমাধ্যমের যুগান্তকারী বিকাশ ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন হাছান মাহমুদ।
বিশ্ব সংকটময় পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অর্জন তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারই ১০০ ভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারে না। সব সরকারেরই কিছু ভুলত্রুটি থাকবে। সেটিকে বড় করে না দেখে জাতির বড় বড় অর্জনগুলোকে তুলে ধরতে হবে, জাতীয় স্বার্থ, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির ক্ষয়ে পুরো দেশের ক্ষতি হতে পারে।
Leave a Reply