পরশুরাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
“শিবব্রত”
্পরশুরাম উপজেলায় ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মেজবাহ(৪৫) নামে বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত রবিবার বিকেল অনুমান ৫টার দিকে উপজেলার বাঁশপদুয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মেজবাহ বাঁশপদুয়া এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানায় এলাকাবাসী।
উপস্হিত এলাকাবাসী জানায়,গত রবিবার বিকেলে মেজবাহ সীমান্তের নিকটবর্তী তার নিজস্ব জমিতে ধান কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তার পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে হতাশার মধ্যে ছিলেন। গতকাল স্হানীয় কিছু লোক আবারো মেজবাহ কে খুঁজতে গিয়ে এলাকার স্হানীয় রৌশন আলী নামে এক ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে২১৬৪ নং পিলারের কাছে ঘন জঙ্গলে নিখোঁজ মেজবাহর মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী ব্যাপারটি বিজিবি কে জানায়।
খবর পেয়ে গুথুমা ক্যাম্পের বিজিবি দল ঘঠনা স্হলে পৌঁছে এলাকাটি সংরক্ষিত করে রাখে।
স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, সীমান্তে মেজবাহ’র মৃত্যুর বিষয়টি রৌশন আলীর কাছে জানতে পারেন এপারের বাসিন্দারা।
নিহত মেজবাহ’র পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত রোববার বিকেলে কাজ করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মেজবাহ। বিকেল সাড়ে চারটায় দিকে ফোনে কথা হয় মেজবাহ র সঙ্গে। তখনো তিনি জানান, তার কাজ শেষ হয়নি। আসতে দেরি হবে বলে জানান। এরপর রাত ১০টায় আবারও ফোন করা হলে মেজবাহর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আজ বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বাইরে মেজবাহ র লাশ পড়ে আছে। এ পাশে বাংলাদেশ সীমান্তে উৎসুক মানুষের ভিড়।
মেজবাহ কে হারিয়ে শোকে আহাজারি করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
উপস্থিত পরশুরাম পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনার নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুমন জানান,তিনি ও খবর পেয়েছেন মেজবাহ গত তিন দিন ধরে মেজবাহ নিখোঁজ রয়েছেন।আজ সকালে তাকে খুঁজে পাওয়ার খবর পান।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মেজবাহ দিন মুজুরের কাজ করেন। সীমান্তে কোন অবৈধ ব্যবসায় জড়িত নন।
গুথুমা বিজিবি বিওপির নায়েক সুবেদার নজরুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বিএসএফের নির্যাতনে ওই লোক নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের কাছে তাঁরা চিঠি পাঠিয়েছেন। মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে থাকায় সরাসরি মৃতদেহ নিয়ে আসা যাচ্ছেনা। বিজিবি উদ্নতন কতৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান বিজিবি।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিজিবির পক্ষ থেকে পরবর্তী কোন সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি।