কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাসচিব রুহুল আমিন রুবেল বলেন, দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করায় অনেকে একদম শেষ সময়ে এসে জানতে পারেন যে তাদের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এর মধ্যে প্রতিবছর ৪০ হাজার রোগীর কিডনি নষ্ট হয়। এসব রোগীর ৭৫ শতাংশ ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা করতে না পেরে মারা যান। চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশিরভাগ রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেন। এ ছাড়া হঠাৎ কিডনি নষ্ট হয়ে বছরে আরও ২০ হাজার রোগী মারা যান।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে দুই দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের প্রথম দিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এ বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে কিডনি রোগ ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞরা বলেন, যথাসময়ে কিডনি রোগ শনাক্তের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করা জরুরি। মরণোত্তর অঙ্গদান বা ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়ে লোকজনকে আরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মৃত ব্যক্তির কিডনি দান করা হলে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচবে।
অনুষ্ঠানে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। আর্থিক সংকটে বেশিরভাগ কিডনি রোগী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ও ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে রোগীর জীবিত আত্মীয়ের দান করা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলেও এখনো ব্রেন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপিত হয়নি। এটি খুব শিগগিরই শুরু করতে চায় বিএসএমএমইউ। এতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচবে।
বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নিয়মিত স্ক্রিনিং না করানোর কারণে দেশে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যথাসময়ে শনাক্ত হয় না। এ কারণে কিডনি সমস্যাও যথাসময়ে শনাক্ত না হয়ে কিডনি রোগী বাড়ছে।
Leave a Reply