August 24, 2026

গড়জরিপা আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে আয়া পদে নিয়োগ : শিক্ষা অফিসের নির্দেশ মানছেনা সুপার

0
received_199474205692699

 

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক শেরপুর প্রতিনিধিঃ

শেরপুরের শ্রীরবদী উপজেলার গড়জরিপা আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে আয়া পদে নিয়োগ দিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ প্রাপ্ত আয়া আছমা খাতুনের বেতন স্থগিতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস নির্দেশ দিলেও, তা
মানছেনা সুপার মো. আব্দুল কাদির। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে কেচোঁ খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসে।
জানা যায়, গত ৩১শে জুলাই ২০২০ ইং তারিখে গড়জরিপা আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আয়া পদে নিয়োগের জন্য পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উক্ত পরিক্ষায় আছমা সহ মোট ৭ জন পরীক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জাল- জালিয়াতের মাধ্যমের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আছমা খাতুনকে নিয়োগ দেয় মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল কাদির ও গর্ভনিং বডির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরীক্ষা অংশ গ্রহনকারী ও অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী আরজিনা বেগম উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করার পাশাপাশি আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফলশ্রুতিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গত ২৩/৬/২০২১ইং তারিখের স্বাক্ষরিত পত্রবলে আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগকৃত আছমা খাতুনের বিল বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন সুপার আব্দুল কাদিরকে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের লিখিত নির্দেশ পাওয়া সত্বেও তা আমলে নিচ্ছেনা দুর্নীতিবাজ সুপার আব্দুল কাদির।
সরেজমিনে তদন্ত, বাদীর আদালতে দায়ের করা মামলার নথি ও বিভিন্ন অফিসে দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নিয়োগকৃত আছমা খাতুনের শেরপুর ও গড়জরিপা ঠিকানায় ২ টি এনআইডি। দুটি এনআইডিরই জন্ম তারিখ ১/১/১৯৮৮ইং তারিখ। গড়জরিপার এনআইডিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা দেয়া আছে ৫ম শ্রেনী পাশ। তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৮ম শ্রেনী পাশের সনদ নিয়ে। এছাড়া আছমার ২০/৩/১৯৯২ ইং কাবিন নামায় বয়স দেয়া আছে ১৮ বৎসর। অপরদিকে আছমার ছেলে আনিছুর রহমানের এসএসসি’র সনদনুযায়ী জন্ম তারিখ দেয়া আছে ১/৩/১৯৯৭ইং তারিখ। এখানে প্রশ্ন জাগে নিয়োগকৃত আছমা খাতুনের বিবাহের বয়স,চাকুরিতে দেয়া বয়স, তারই উরশজাত সন্তানের বষয় নিয়ে। ডিমের আগে মুরগী, নাকি মুরগীর আগে ডিম? বিভাগীয় ভাবে তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করেন, এলাকার সচেতন মহল।এ ব্যাপারে নিয়োগ বন্চিত, অভিযোগ ও মামলা দায়েরকারী বাদী আরজিনা বেগম আবেগাপ্লোত হয়ে এ প্রতিনিধিকে বলেন,”আমি শেরপুর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছি। পেটের দায়ে ও কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে আয়া পদে অংশ গ্রহন করেছিলাম। সুপার ও সভাপতিকে কিছু খরচও দিতে চেয়েছিলাম। তাদের চাহিত ২০ লক্ষ টাকা দিতে পারবনি বলে তারা আমাকে নিয়োগ না দিয়ে যোদ্ধাপরাধী কামারুজ্জানের কাজের মেয়ে আছমা খাতুনকে মোটা টাকার বিনিময়ে জালিয়াতি করে নিয়োগ দিয়েছে। যে ক’জন প্রার্থী অংশগ্রহন করেছিল, তাদের মধ্যে আমিই অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন। আমিই এ নিয়োগের দাবীদার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা সহ ন্যয় বিচার দাবি করছি। অত্র মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল কাদিরকে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিধিমোতাবেক আছমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের সময় তার কাবিন নামার বয়স, ছেলের বয়স দেখার কোন নিয়ম নেই। এছাড়া কমিটির চাপে আমি আছমার বেতন ছাড় দিলেও আদালতের নিষ্পত্তি না আসা পর্যন্ত তার বিল আর ছাড় দিবোনা।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন তালুকদার এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,” আদালতে মামলা থাকার কারণে আছমা খাতুনের বিল বন্ধের নির্দেশ সুপারকে দেয়া সত্বেও তিনি কিভাবে বিল দিচ্ছেন, বিষয়টি আমার অজানা। আমি দেখছি, কি করা যায়”।গড়জরিপা আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে আয়া আছমা খাতুনের নিয়োগ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *