মনিরামপুরে পুত্রবধুকে পিটানোর প্রতিবাদে পিতাকে হত্যা চেষ্টা বিল্লাল হুসাইন
বিল্লাল হুসাইন।।
যশোরের মণিরামপুরে পুত্রবধুকে পিটানোর প্রতিবাদ করায় দিনমজুর পিতাকে ধারালো করাত দিয়ে কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসী পুত্র। উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের ব্রক্ষ্মপুর গ্রামে এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পিতামাতা। ঘটনার পর হামলাকারী পুত্র বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রক্ষ্মপুর গ্রামের কাঠ শ্রমিক সবুর সরদারের পুত্র হাবিবুর রহমান মিন্টু তার স্ত্রী দুই সন্তানের মা আসমাকে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেধড়ক পিটাচ্ছিল। এ সময় বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বৌমাকে মারপিটের প্রতিবাদ করেন পিতা সবুর সরদার (৫৫)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে হাত করাত বের করে পিতার বুকের উপর দাঁড়িয়ে হাত এবং পা কাটতে থাকে সন্ত্রাসী মিন্টু। এক পর্যায় পিতা সবুর জ্ঞান হারালে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মিন্টু।
সন্ত্রাসী পুত্রের এমন নৃশংসতা দেখে ভয়ে তার হাত থেকে স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি ফরিদা বেগমসহ পরিবারের কেউ। গ্রামের অনেকেই জানান, সবুর সরদারের বাড়ি অনেকটা ফাঁকা স্থানে হওয়ায় বিষয়টি তারা জানার আগেই মিন্টু পালাতে পেরেছে। সন্তানের হাতে নৃশংসতার শিকার সবুর সর্দারের স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, ঘটনার পর তার স্বামীকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু তার হাত এবং পায়ের একাধিক শিরা কেটে যাওয়াসহ হাঁড় পর্যন্ত ক্ষত হয়েছে মর্মে হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর অথবা অন্য কোথাও নিতে হবে। সে মোতাবেক হাঁড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নজরুল ইসলামের মণিরামপুর পৌর শহরের রোকেয়া ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে সন্ত্রাসী পুত্রের কঠোর শাস্তির দাবীতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সবুর সর্দার ও ফরিদা বেগম। তারা জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও মিন্টুকে আটক করতে পারেনি। ফরিদা বেগম আরো জানান, আনুমানিক ২ মাস আগে তাদের পুত্র মিন্টু তাকে এবং তার একমাত্র কন্যাকে বেদম মারপিট করে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে সবুর সরদারের হাতের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে, পায়ের অপারেশন যে কোন সময় করা
হবে। জানতে চাইলে, মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, পিতার উপর হামলাকারী মিন্টুকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।