“Gold Medal Award ( রাষ্ট্রপতি কাছ থেকে ) অর্জন করল দাকোপের সোনার ছেলে সৌমেন্দু রায়”
তাপস মহালদারঃ খুলনার দাকোপের ৪ নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনটানা গ্রামের ছেলে সৌমেন্দু রায় পিতা- স্বপন রায়,মাতা- দিপালী গায়েন সত্যিসত্যিই মেধাবী। তার প্রশংসা না করে থাকা যায় না। দাকোপের গর্ব সে।
প্রতিটি সফলতার পিছনে একটা রহস্য বা একটা সৃষ্টি থাকে। সৌমেন্দু যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তার দাদা (বড় ভাই) ২০০৪ সালে তার মাকে একটা চিঠি লিখলো….সেই চিঠিটি ইতিহাস হয়ে থাকবে, সৌমেন্দুর সফলতার পিছনে ঐ চিঠিটি একটা মাইলফলক, একটা স্মৃতি। চিঠিতে কি লেখা ছিল সেই গল্প তার মায়ের মুখ থেকে শুনবো।
প্রতিটি বাবা মায়ের স্বপ্ন থাকে ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার বা Engineer হবে। আজ World Engineering Day তে আমরা গর্ব করতে পারি আমাদের সৌমেন্দু রায়কে নিয়ে। ২০১৫ সালের ২৬ শে নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় সমাবর্তন অনুষ্টানে সৌমেন্দু রায় Gold Medal Award অর্জন করেন।
দাকোপের মেধাবী সন্তান সৌমেন্দু রায় রাষ্টপতির কাছ থেকে এই পদক পেয়েছেন।
এত বড় অর্জন যার ঝুলিতে কে এই সৌমেন্দু!
সৌমেন্দু রায়ের জন্মস্থান দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণটানা গ্রামে। রত্নাগর্ভা মা দীপালি রায় ও গর্বিত পিতা স্বপন কুমার রায়ের ছোট ছেলে সৌমেন্দু রায়।
গর্বিত পিতা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক স্বপন কুমার রায় বলেন, ” আমার শিক্ষকতা জীবনে আমি ধণ্য, আমি কখনো ভাবিনি আমার ছোট ছেলে রাষ্ট্রপতির পদক পাবে, আমরা রাষ্ট্রপতির সামনে এত বড় অর্জনে অংশীদার হতে পারবো.. সৃষ্টিকর্তার কৃপা হয়ত ছিলো…ছোট ছেলে তার একাডেমিক রেজাল্টের জন্য রাষ্ট্রপতির পদক পেয়েছিলো। সেই অনুষ্ঠানে আমি ও আমার সহ-ধর্মিনী ছিলাম, ছোট ছেলে সোনার পদক নিয়ে এসে আমার গলায় পরিয়ে ছিলেন এবং টুপিটা তার মা’কে পরিয়ে দিয়েছিলেন। ছেলে আমাকে বলেছিলো “বাবা এটি তোমার প্রাপ্য, তোমাকে পরিয়ে দিলাম” সে এক স্বরণীয় মুহুর্ত, আমার জীবনে এমন সুন্দর দৃশ্য আর কখনো আসে নাই, নিমিষেই আমার চোখে জল চলে আসে। ছেলে বাবাকে পদক পরিয়ে দিচ্ছেন. আমি একনজর দেখেছিলাম মহামাণ্য রাষ্ট্রপতি আমাদের এই দৃশ্য হয়ত এক নজর দেখেছেন। অসম্ভব সুন্দর এই স্মৃতি কখনো ভূলে যাওয়া যায় না।
চিঠিতে কি লেখা ছিল এবং মায়ের অনুভূতি জানাতে
ডিকেএসপির সাথে একান্ত আলাপচারিতায় রত্নগর্ভা মা দীপালি রায় বলেন, ” ঘটনা ২০০৪ সাল। আমার ছোট ছেলে বাজুয়া স্কুলে পড়ালেখা করতো, একদিন সকালে আমরা একটি চিঠি পাই, চিঠিটি লিখেছিল আমার বড় ছেলে বর্তমানে রা.বি এসোসিয়েট প্রফেসর রুদ্রেন্দ্র রায় ( রুদ্র)।
তখন ছোট ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। ওর দাদা চিঠিতে লিখলো গ্রামের পরিবেশে ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা হয়ত খুব ভাল হবে না, আমি সৌমেন্দুকে রাজশাহীতে নিয়ে আসতে চাই, আমার এখানে রেখে পড়ালেখা করাতে চাই, তোমরা ভাই-কে আমার কাছে ছেড়ে দাও….আমি সব দায়িত্ব নিজে নিতে চাই….তারপর ক্লাস নাইন থেকে এই পর্যন্ত আসার পিছনে ভাইকে যে কিভাবে উপযোগী করে তোলা যায় তার বড় প্রমাণ রেখে দিলো আমার বড় ছেলে।
আমি মা হিসাবে আমার ছোট ছেলের এই অর্জনের পিছনে বড় ছেলেকে শতভাগ এগিয়ে রাখবো….ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের এই ত্যাগ স্বীকার একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে….আমরা অভিভাবক হিসাবে সত্যিই গর্বিত, আমরা অত্যন্ত খুশি”।
ডিকেএসপি পরিবার-কে সৌমেন্দু রায় বলেন “ভাল লাগছে এবং অনুপ্রাণিত হয়েছি। ভাল কিছু আমাকে সব সময় সামনের দিনে ভাল কিছু করার সাহস জোগায়। এই অর্জন কখনো সম্ভব হত না আমার বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের অবদান ছাড়া। আমি হয়ত তাদেরকে কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট করতে পেরেছি এবং পিতা-মাতার হাসিমুখটা দেখে খুবই ভাল লাগছে। এটা সত্য আমার বড় ভাই আমার জন্য অনেক কিছু করেছে সেটা কখনো ভূলে যেতে পারবো না।আমি সকলের কাছে আশীর্বাদ চাই।
সৌমেন্দু রায় ছোট বেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে (জুনিয়র) বৃত্তি পেয়েছিলেন। এরপর রাজশাহী বি.বি হিন্দু একাডেমি থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ( জিপিএ ৫.০০) পাশ করেন, যশোর ক্যানটেন্টমেন্ট কলেজ থেকে ২০০৯ সালে সায়েন্স থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ( জিপিএ ৫.০০) পাশ করেন।
তারপর বিএসসিতে
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে (BSc in CSE)
২০১৫ সালে প্রথম স্থান করেন। সিজিপিএ ৩.৭২ আউট অব ৪.০০। মূলত বিএসসির এই অসাধারণ ফলাফলের জন্য সে Gold Medal Award পান যেটি বাংলাদেশের মহামাণ্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে গ্রহণ করেন।
একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে MSc শেষ করেন এবং সিজিপিএ ৩.৯০ আউট অব ৪.০০ পান।
এককথায় সৌমেন্দু দাকোপের সোনার ছেলে, দাকোপের সম্পদ।
দাকোপ খুলনা শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল। ৪ নং কৈলাশগঞ্জ বাসী এমন পরিবারের প্রশংসা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।