July 26, 2026

ঝিনাইগাতি উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে জুতা নিক্ষেপ করে কারাগারে

0
received_815237966073309

 

শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএমএ ওয়ারেজ নাইম এর সফলতার দুই বছর পূর্তি অনুষ্ঠান মঞ্চে জুতা নিক্ষেপ করেছে তারই রাইস মিলের সাবেক কর্মচারী (ইলেক্ট্রিশিয়ান) আবু বক্কর সিদ্দিক। গতকাল (২৪ মার্চ) বুধবারের এ ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সিদ্দিক নোয়াখালী জেলার বসুরহাট উপজেলার চরহাজারী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। বিবাহ সূত্রে তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও গ্রামে বসবাস করছেন।জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওয়ারেছ নাইম এর রাইস মিলে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকুরীকালীন সময় একটি রিমোট চুরির অপবাদে দিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিককে চাকুরীচ্যুত ও লাঞ্ছিত করা হয়। ওই সময় আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকার লোক বলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে এবং বকেয়া বেতনের দাবী করে। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নাইম এর নির্দেশে মিলের ম্যানেজার ১শ বার কান ধরে উঠবোস করায় সিদ্দিককে। এমনকি তার বকেয়া বেতন না দিয়ে উল্টো তার ছেলেকেও চাকুরীচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিক অপমানে আত্মহত্যার কথা ভেবেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি নিরবে কষ্ট চেপে ছিলেন।
এদিকে গতকাল (২৪ মার্চ) বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নাইম এর সফলতার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে জুতা নিক্ষেপ করেন আবু বক্কর সিদ্দিক। এসময় উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে সিদ্দিককে গণপিটুনি দিতে গেলে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে আওয়ামী লীগ নেতা ওমর আলী বাদি হয়ে আবুবকর সিদ্দিকের নামে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ সিদ্দিককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম জানান, আমার মিলে চাকুরীর সময় আবু বক্কর সিদ্দিক নেশাটেশা করতো। এ জন্য আমার মিলের কর্মচারীরা তাকে বের করে দেয়। ওই ক্ষোভে দুষ্ট লোকেদের পরামর্শে সে গতকাল আমার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে।ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফায়েজুর রহমান জানান, জুতা নিক্ষেপ করেছে কি না তা বলতে পারব না। তবে তার নামে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই সময় পুলিশ না থাকলে আবু বক্কর সিদ্দিককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার আশঙ্কা ছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed