জি এম মমিনুল ইসলাম স্টাপ রিপোটার্স: পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা যৌতুক মামলার জের ধরে স্ত্রীর হাতেই মারধরের শিকার হয়ে স্বামী শ্বশুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় ওই স্বামী শ্বশুরকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (০৮ ই মার্চ-২০২১) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের অলিপুরা গ্রামে স্বামী শ্বশুরের বসত ঘরে। আহত স্বামী লিটন মোল্লা (৩০) ও শ্বশুর সোবহান মোল্লা (৫৫) ওই গ্রামের বাসিন্দা। আর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৫), স্বামী- লিটন মোল্লা। সরেজমিনে প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়রা জানান, ওদের সুখের সংসার। কিন্তু স্বামী লিটন মোল্লা আয় রোজগারের জন্য ঢাকাতে থাকায় ওই স্ত্রী পরপুরুষের সাথে একলা ঘরে রাতযাপন করতো পরকীয়া করে। এগুলো স্বামী লিটন জানতে পারলে সেই থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পরে দিক দক্ষিণা না পেয়ে ওই স্ত্রী আদালতে একটি মিথ্যা যৌতুক মামলা করে। আজকে আবার স্বামী শ্বশুরের গায়ে হাত তুলেছে। যদিও ওই স্ত্রী সন্তানরা স্বামীর ঘরে থাকে ও ভোগবিলাস করছে। এদিকে আহত অবস্থায় স্বামী লিটন মোল্লা অভিযোগ করে জানান, আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমাদের পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমরা উভয় আপন খালাতো ভাই-বোন। আমাদের ঘরে চার মেয়ে সন্তান। প্রথম বড় মেয়ে ছাহিদা (১২) হাফেজা বানানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি। আর রুবাইয়া (৮), নুসরাত (৫), শাফা (৫) মাস। কিন্তু আমি আয়রোজগারের তাগিদে ঢাকা থাকায় আজ থেকে দুই বছর পূর্বে আমার স্ত্রী পরকীয়ার অনৈতিক কার্যকলাপে জরিয়ে পড়লে স্থানীয় শালিশ মীমাংসা হয়। আমি ঢাকা থাকায় যে কার্যকলাপ আমার বড় মেয়ের চোখে ধরা পড়ে। তার অনৈতিক কার্যকলাপের প্রমাণ আছে। হঠাৎ আমার বিরুদ্ধে দুই আড়াই মাস পূর্বে পটুয়াখালী কোর্টে গিয়ে যৌতুক মামলা দিলে সিদ্ধান্ত নেই আমার ঘরে থেকে খেয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ঠিক আছে আমি আর কোনও ভরনপোষন দিবনা বরং তালাক দিয়ে দিব। এই সপ্তাহখানেক আগে সে সন্তানদের নিয়ে তার বোনের বাসা ঢাকাতে গেলে আমি গত শনিবার বাড়ি আসি। আমি ঘরেতে ঘুমাচ্ছি আজ সকালে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে দরজা দেওয়া দেখে ডাকাডাকি করলে আমি দরজা না খোলায় পাশের বাড়ির এক মহিলা দরজা খুলতে বললে দরজা খুলে দিলেই অমনি আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে জামাকাপড় ছিড়ে মারধর করতে থাকে। আমি ডাকচিৎকার দিলে আমার বাবা এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। শ্বশুর সোবহান মোল্লা জানান, ডাকচিৎকার শুনে আমি ছাড়াতে গেলে আমার পুত্রবধূ আমাকেও মারধর করে। একটা দাজ্জাল সে। ঘরে থাকে আর খায় এবং দাজ্জালগিরি করে। এব্যাপারে স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, সে আরেকটা বিয়া করেছে তাকে নিয়ে থাকে এবং আমাদের কোনও খাওন পড়ন দেয় না। আমার কষ্টের সংসার এরেখে আমি কোথাও যাবোনা। এবিষয়ে সাংবাদিকদের সরেজমিনে ইউনিয়ন দফাদার জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে থেকে ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
Leave a Reply