August 28, 2026

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ে বসবাসকারীরা উচ্ছেদ আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে

0
124161864_635293967167370_6008224036034106356_n

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসী নৃ-তাত্বিক জনগোষ্টীসহ সাধারণ মানুষ বন বিভাগের উচ্ছেদের ভয়ে আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।মামলার ভয়ে বন বিভাগের জমিতে বাস করা পরিবারের পুরুষরা রাতে বাড়ীঘর ছেড়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন করছে।বাড়ীঘর ছেড়ে অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১ টা থেকে ৩ টার মধ্যে বনবিভাগের এসিএফ ড, প্রাণতোষ এর নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার বসতবাড়ীতে বন বিভাগের দখল কৃত জমিতে ঘর নব নির্মিত ঘরে হামলা চালিয়ে প্রায় ৪২ হাত লম্বা টিনের ঘর ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয়।এসময় মোস্তফার অভিযোগ আমার কলেজ পড়ুয়া ঘুমন্ত মেয়েকে টানা হেচড়াসহ শ্লীলতাহানি করে ফরেস্টের লোকজনে মেয়ের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া ঘরে থাকা সিন্দুক ভেঙ্গে নগদ ৩ লক্ষ টাকাসহ স্বর্ণের অলংকার লুটপাঠ করে নিয়ে যায়, ফরেস্ট অভিযোগ আমাদের বনের জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছে অবৈধভাবে তা ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে মাত্র।এ ঘটনার এলাকাবাসীর ক্ষুপে বিট অফিসার শেষ রাতের দিকে কৌশলে অফিস ছেড়ে সটকে পড়ে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সকালে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বন বিভাগের সন্ধ্যাকুড়া বিটের ২ জন প্রহরীকে বেধে মারধর করে। বন বিভাগের প্রহরীরা দল বেঁধে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে ২০ অক্টোবর মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে শেরপুর কোর্টে পৃথক পৃথকভাবে মামলা করেছে।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গোমড়া গ্রামের পারুল আক্তার জানান,সম্প্রতি ঝড়ে পড়া তার বাড়ীর পার্শ্বে একটি গজারী গাছ উপড়ে পড়ে। বিট কর্মকর্তা বন প্রহরীদের সাথে নিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌছে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জজ মিয়া গালাগালি করতে নিষেধ করলে তাকেও অপমান করে বিট কর্মকর্তা। এদিকে রাংটিয়া গ্রামের হোসেন আলীর মাল্টা বাগানের ফল আসা শতাধিক গাছ বন বিভাগের লোকজন কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এছাড়া একই গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ফলের বাগান কেটে সাবাড় করে দেয়।এতে বাগানের মালিক প্রতিবাদ করলে তাকে গ্রেফতার করে মামলায় ঢুকাবে বলে হুমকি দেয় বন বিভাগের লোকজন। সুরত আলীর ৬০/৬৫ বছর যাবত দখল করে নিজের মতো চলছিল প্রায় ১ একর জমি ঐ জমিতে সুরত আলীর পুএ রুস্তম আলী ঘর নির্মাণ করেন গত ৪ নবেম্বর গারোকানা গ্রামের রুস্তম আলীর বসতবাড়ী ভেঙ্গে দিয়েছে বন বিভাগের লোকজন।রুস্তমের স্ত্রী মোকলেজা খাতুন বলেন,দা, লাঠি, কুড়াল নিয়ে ৪০/৫০ লোক এসে রেঞ্জারের নেতৃত্বে আমার বাড়ীঘরসহ বাশের ঝাড় ও আবাদি সবজি ক্ষেত কেটে সাবার করে দিয়েছে। ছোট ছোট ৪ জন পোলাপান নিয়ে আমরা রাস্তার মধ্যে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছি। বন বিভাগ গোমড়া গ্রামের ৩৪ এবং গারোকোনা গ্রামের ২৬ বাড়ী ভাঙ্গার তালিকা করেছে বন বিভাগ । বাড়ী ভাঙ্গার নোটিশের আতংকে এসব বাড়ী ঘরের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।বন বিভাগের সন্ধ্যাকুড়া বিট কর্মকর্তা রাশেদ বিন সিরাজ জানান,বন বিভাগের এসব জমি উদ্ধারের জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন,বন বিভাগের জমি উদ্ধারের জন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি । ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রুস্তম আলীকে তার পূর্বের বাড়ীতে বসত ঘর নির্মাণ করতে আদেশ দেয়া হয়েছে ।তার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য একটি ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *