স্টাফ রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম:
ময়মনসিংহের নান্দাইলে বল্লমের সামনে গিয়ে ভাইকে বাঁচাতে জীবন দিলো বোন।আজ শনিবার এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনাটি সাক্ষী হলো ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বনাটি বাজুপাড়া গ্রামে। জমি বণ্টনসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়।
নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের বনাটি বাজুপাড়া গ্রামের মো. সাহেদ ভূঁইয়ার মেয়ে ইতি আক্তার সেলিনা (১৭)। গত বছর সে স্থানীয় কাশিনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল।
ঘটনাস্থলটি সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ইতি আক্তারের মরদেহ তার বাড়ির আঙিনায় পড়ে আছে। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রতিপক্ষের দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তরা ঘটনার পর পালাতক। পুলিশ ওই গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ সময় বাবা সাহেদ আলী মরদেহের সামনে পড়ে চিৎকার করে কাঁদছিলেন। অন্যদিকে মা আর অন্য বোনেরা আহাজারি করছিলেন। বাবা পাগলের মতো বলছেন, রিপন আমার ছেড়িডারে বল্লম দিয়া ঘা দিয়া মারছে। হেরেও একটা ঘা দেইন। মা শিরিন আক্তারও মরদেহের সামনে আছড়ে পড়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। লাশের মাথা ধরে অপলকে চেয়ে ছিলেন বোন।
গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, সাহেদ আলী ও লাল মিয়া দুই ভাই। পৈতৃক জমি বণ্টনের সময় লাল মিয়া প্রায় ৫০ শতকের মতো জমি বেশি কবজা করে নেয়। সেই জমি ফেরত পাবার জন্য চেষ্টা করছিলেন সাহেদ আলী ও তার ছেলেরা। এ নিয়ে গ্রামে একাধিক সালিস করেও জমি ফেরত পাননি সাহেদ আলীর পক্ষ। গত শুক্রবারও এক সালিস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সালিসের সিদ্ধান্ত সাহেদের পক্ষে এলেও লাল মিয়া তা মেনে নিতে অস্বীকার করে। বারবার সালিস আয়োজন করায় লাল মিয়ার ছেলেরা সাহেদ আলীর ছেলেদের প্রতি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন।
আজ শনিবার ভোরে সাহেদ আলীর ছেলেরা নিজেদের অন্য জমিতে বীজতলা তৈরি করতে নামে। এ সময় লাল মিয়ার ছেলেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাহেদ আলীর ছেলেদের চারদিকে ঘেরাও দিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী রিপন একটি বল্লম ছুড়ে মারে সাহেদ আলীর এক ছেলের দিকে। কাছেই বাড়ি থেকে এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে ইতি আক্তার ভাই শহিদকে বাঁচাতে দৌড়ে ভাইয়ের সামনে গিয়ে পড়ে। এ সময় ছুড়ে দেওয়া বল্লমটি গেঁথে যায় তার গলায়। পরে সে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইতি মারা যায়।
এর পর প্রতিপক্ষের লোকজন গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও লাল মিয়ার স্ত্রী জামেনা, কন্যা নাজমা ও ভাই চান মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি ( তদন্ত)
মোঃ আবুল হাসেম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply