নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিস্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতি।আমদানি রপ্তানি প্রায় বন্ধই বলাচলে।বিশেষ করে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক,চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি প্রয় বন্ধ বলাচলে।কিচুটা আসার আলো দেখাচ্ছিলো পাট খাত।বিশ্ববাজারে পাটের মূল্য বৃদ্ধি কারণে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।
চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে(জুলাই-ফেব্রুয়ারী) পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশের আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৭৬ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার।গত অর্থবচরের তুলনায় রাপ্তানি ২৪.৪৫ শতাংশ বেশি ছিল।এই অবস্থার মধ্যেও কথিত আধুনিকায়নের নামে সরকার ২৫টি পাটকল হটাৎ বন্ধ করে দিয়েছে।এগুলি বন্ধ করার পেছনে সরকার যুক্তি দেখিয়েছে পাটকলগুলিকে আরও আধুনিকআয়ন ও শ্রমিক দেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও দক্ষ করাহবে।
কিন্ত পরিতাপের বিষয় সরকার কি একবারও চিন্তা করেনি করোনার পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যেখানে কর্মহীন হচ্ছে সেখানে ২৫টি পাটকল বন্ধ করার কারণে আরও কয়েক লক্ষ শ্রমিক নতুন করে বেকার হয়ে পড়েছে।
বিএনপির ক্ষমতার সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানের কারণে আদমজী জুটমিল বন্ধ করেছিল।এটা নিয়ে আওয়ামিলীগের নেতারা সমালোচনা করতে করতে মুখে ফেনা তুলেছিল বিএনপি সরকার বিস্বব্যাংকের পরামর্শে আদমজী জুটমিল বন্ধ করেছিল।
এখন সাবাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে আওয়ামিলীগ সরকার কার সার্থে বা জাকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ২৫টি পাটকল বন্ধ করেছে।বাংলাদেশের পাট শিল্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।বিস্ববাজার থেকে বাংলাদেশকে সরানোর জন্য এমন কোন কূটকৌশল নেই যাহা ভারত করেনি।বর্তমান সরকার ডিজিটালাইজেশন কথা বললেও একটানা ১২ বৎসর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রপ্তানি খাতে সফলতা অর্জনকারী পাট শিল্পের আধুনিকায়ন করেন নি।বিস্বের সেরা মানের পাট উৎপাদন কারি দেশ বাংলাদেশ হলেও বিস্ববাজারে তাহা কাজে লাগাতে পারছেনা।আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বহুমুখি পাটপণ্য তৈরি করার মত অত্যাধুনিক মেশিন পত্র বাংলাদেশের নেই।দেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কিছু পাটকল গড়ে উঠলেও তার বড় আকারে উৎপাদনে সক্ষম নয়।আমদের সরকারী জুটমিলগুলি চলছে ৫০ বচরের পুরোনো মেশিন পত্র দিয়ে।ফলে উন্নত সুতা ও ফেব্রিক্স পাওয়া যায় না।হাতেগোনা ৪ থেকে ৫ ধরণের ফেব্রিক্স আছে বাংলাদেশে।প্রোডাক্ট ডেভলপমেন্টের মত জনবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে আমাদের।বিপুল সম্ভাবনা থাকা শর্তেও বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি যেখানে ব্যর্থ সখানে অধুনিক মেশিন পত্রের কল্যানে সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারত।আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন পত্র আমদানিতে সরকারী সিদ্ধান্তে পাটকলগুলিকে ৬০শতাংশ ঋণ দিচ্ছে ভারত।আমাদের দেশের সরকারের অমনোযোগীতার করণে ব্যাংকগুলো বেসরকারী খাতের পাটকলগুলি অর্থায়নে সহযোগিতা করেনি।পাট প্রযুক্তির বহুমুখি উন্নয়নের জন্য সরকারী অর্থায়নে ৩টি শায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরিকরেছে সে দশের সরকার।কিন্ত আমাদের সরকার এই খাতকে গুরুত্ব দেয়নি।বাংলাদেশের পাট শিল্প গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্ববাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করবে ভারত।পাট-শিল্পের আধুনিকায়নের নামে শিল্পগুলি বন্ধ করার জন্য সরকার এ মুহুর্ত কে বেছে নিয়েছে যেন শ্রমিকরা লকডাউনের কারণে আন্দলনে নামতে না পারে।আমাদের দেশের সরকার কি চায় সেটা এতদিন বোদগম্য নাহলেও এখন পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে।পাটকলের আধুনিকায়ন যে কবে শেষ হবে আল্লাহ ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু এ মুহুত্বে পাটকলগুলি বন্ধ করে দেওয়ায় পাটপণ্যের বাজার ভারতের দখলে চলে যাবে কোন সন্ধেহ নাই।
কোভিড-১৯এর কারণে যেখানে কোটি কোটি লোক বেকার হয়ে পড়েছে সেখানে আরও কয়েক লক্ষ বেকার মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত মানুষ খেয়ে-পরে বাঁচতে চায়।আর বাঁচার তাগিদে কোন বাঁধাই মানবে না।জীবন ঝুকি নিয়ে তাঁরা রাস্তায় নেমে পড়বে।তাই এ মুহুর্তে আরও লক্ষ লক্ষ বেকার না বাড়িয়ে পাটকলগুলি খোলা রাখাই জনগনের একমাত্র দাবী।
লেখক
ওমর ফারুক পাটোয়ারী
যুগ্ম আহ্বায়ক
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল কেন্দ্রীয় কমিটি।
Leave a Reply