প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাঁচাতে বাবার প্রাণপণ চেষ্টা
গাজী তাহের লিটন,বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রতিবন্ধী শিশু মারজানা আক্তার। বয়স যখন মাত্র ১৯ দিন তখন হঠাৎ করেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তার মা মারা যাবার পর পরই এই দুধের শিশু মেয়েটিকে লালন পালণ করেন তার দাদী, দাদীর কোলেই মায়ের আদর যত্নে থাকতো সে, প্রায় ৩বছর পরই তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন।
প্রথমত অবস্থায় স্বামীর সংসারে নববধূ রোজিনা বেগম হয়তো মা হারানো শিশু মারজানাকে নিজের সন্তানের মতোই আদর যত্ন করতেন।
তবে কিছু দিন যেতে না যেতেই সৎ মা রোজিনা তার আসল রূপ ধারণ করেন শিশু মেয়েটিকে তিনি মোটেই সহ্য করতে পারতেন না, শিশুটির লালন পালন করতে তিনি অনীহা প্রকাশ করলে তাকে প্রাণপণ চেষ্টা করে বুঝিয়ে সুঝিয়ে মারজানা আক্তারকে লালন পালন করানো হতো৷
কেটে যায় মারজানার জীবনের দুঃখ কষ্টের ৭টি বছর, এর মধ্যে মারজানার একটি পা বিকলাঙ্গ সে (প্রতিবন্ধী) মারজানার যেন কষ্টের শেষ নেই, একদিকে যখন সে মা হারানো এতিম। অপরদিকে দিনমজুর বাবা আব্দুল আহাদ সারাদিন জীবিকার তাগিদে গ্রামে গঞ্জে থাকেন কর্মক্ষেত্রে, অনেক রাতে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে,অনেকদিন সকালে আবার শিশু মেয়েটিকে ঘুমে রেখেই চলে যান কাজের সন্ধানে, এভাবেই চলতে থাকে মারজানার জীবন, অনেক সময় না খেয়েই ঘুমিয়ে যেতো সে৷ মা হারানো শিশুটির জীবন এভাবেই চলতে থাকে দুঃখে কষ্টে সৎ মায়ের সংসারে৷
অপরদিকে তার সৎ মা রোজিনা বেগমের চোখে যেন শিশুটি বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল শিশু মারজানাকে প্রায় সময়ই মারফিট করতো রোজিনা। একপর্যায়ে মারজানার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে তার সৎ মা রোজিনা বেগম তাকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে একটি ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে মারপিট করে তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্য গলায় গামছা বেধেঁ শাসরূদ্ধ করার চেষ্টাকালে সাথে সাথেই বাড়িতে এসে হাজির হন তার বাবা আব্দুল আহাদ।… রাখে আল্লাহ মারে কে?
এ কথাটি আবারো চিরন্তন সত্য হলো, তাৎক্ষণিক মেয়েটির কান্নার চিৎকার শোনে তিনি ঘরের দরজা সুকৌশলে খোলে এমন অবস্থা দেখে প্রথমে মেয়েটিকে সৎ মা নামের কবল থেকে উদ্ধার করেন৷
এ সময় তিনি তার স্ত্রী রোজিনাকে কঠোরভাবে বিষয়টি জিজ্ঞেস করিলে, একপর্যায়ে তার প্রতি রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে বারান্দা থেকে একটি ধারালো দা’এনে তার স্বামীর উপর হামলা করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে রক্তাক্ত জখমী অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়৷
তাদের এই হট্টগোল ও মারামারির ঘটনার শোর চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে আব্দুল আহাদকে উদ্ধার করে নিয়ে যান নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার চিকিৎসা চলছে৷
এ কথাগুলো কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের নিকট প্রকাশ করেন হতবাগা শিশুর পিতা আব্দুল আহাদ, তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের মশুদ মিয়ার পুত্র৷ এ ঘটনার বর্ণনাকালে হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিক ডাক্তার সহ সবাই যেন হতবাক৷