July 28, 2026

মাননীয় স্পিকারের নির্দেশও উপেক্ষিত পীরগঞ্জে একটি অসহায় পরিবার উচ্ছেদে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জুলুম, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র

0
torture-2jpg

আতিকুর রহমান আতিক বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

রংপুরের পীরগঞ্জের ক্সচত্রকোল ইউনিয়নের চকবর খোদা গ্রামে অবঃ প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য
কর্তৃক একটি অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলছে জুলুম, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র। ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশ
প্রশাসনের দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগি পরিবারটি। শুধু তাই নয় মাননীয় স্পিকারের নির্দেশকেও করা
হয়েছে উপেক্ষিত।
প্রকাশ, উক্ত গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের পুত্র নজরুর ইসলাম (৬০) ক্সপত্রিক সুত্রে ৬ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪০ বছর ধরে বাড়ী নির্মণ
করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তার বাড়ীর পাশের্^ বসবাসরত অবঃ প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আব্দুর নুর এর কু-নজর পড়ে উক্ত বাড়ীর
উপর। এক পর্যায়ে উক্ত বাড়ীর জমি রেয়াজ বদলের প্রস্তাব দেয় আব্দুর নুর। কিন্তু তাতে নজরুল ইসলাম রাজি না হওয়ায় শুরু হয়
নির্যাতন ও জুলুম। জোর পুর্বক উক্ত বাড়ীতে মিথ্যা অংশীদারিত্ব দাবি করে আব্দুর নুর দলবল নিয়ে বৃদ্ধ নজরুল ইসরাম ও বৃদ্ধা স্ত্রী
রোকেয়া বেগম এবং কলেজ পড়–য়া কন্যা নাফিসা আক্তার নীলাকে বেধড়ক মারপিট করে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ও পীরগঞ্জ
থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম। বরং চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ
করার কারনে আব্দুর নুর আরও ক্ষিপ্ত ও বেপয়ারা হয়ে উঠে এবং পুনরায় একাধিক দিন দফায় দফায় অই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা স্ত্রীর উপর
হামলা ও অমানসিক নির্যাতন চালায়। সেই সাথে অই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যাতে বাড়ীতে কোন রান্না করতে না পারে সেজন্য রান্নাঘর ও চুলা
ভেঙ্গে দেয়াসহ বাড়ীতে ব্যবহারের জন্য টিউবয়েলটি ও উঠিয়ে নিয়ে যায় আব্দুর নুর। বর্তমানে এ অসহায় পরিবারটি মানবেতর
জীবন যাপন সহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অবঃ প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য প্রভাবশালী ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর আত্মীয় হওয়ায়
এলাকার কেহ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মুখ খোলার সাহস পায় না জানায় এলাকার অনেকে।
কোন কুল কিনারা না পেয়ে এ বৃদ্ধ ঢাকায় গিয়ে পীরগঞ্জের এমপি ও মাননীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরীর
সঙ্গেও স্বাক্ষাত করে। স্পিকার মহোদ্বয় বিষয়টি ওসি সরেস চন্দ্রকে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারনে ওসি
নিজে তদারকি না করে ইউপি চেয়ারম্যান ও আব্দুর নুর মনোনিত মাতবরদের উপরেই দায়িত্ব ভার অর্পণ করে। এ যেন মড়ার উপর
খাঁড়ার ঘা। ফলে এ পরিবারটির উপর অমানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও দিগুন হারে বেড়ে যায় । এ সুযোগে আব্দুর নুর ভেন্ডাবাড়ী
পুলিশের সাথে যোগ সাজশ করে অই বৃদ্ধকেই মিথ্যা টাকা চুরির অপবাদে পুলিশ ফাঁড়িতে এনে বাড়ী বিক্রির জন্য চাপ দেয়া হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করায় পুলিশ বৃদ্ধকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সে ক্ষেত্রে বৃদ্ধের নিকট থেকে কৌশল পুর্বক
পুলিশ কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহন করে বলে জানায় নজরুল ইসলাম।
সরেজমিনে কয়েকজন গনমাধ্যম কর্মি মিলে গত ৩০ মে উক্ত গ্রামে নির্যাতিত অই বৃদ্ধের বাড়ীতে গেলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন এ
অসহায় দম্পতি। তাহাদের শান্তনা দেয়ার পর এলাকাবাসীসহ একের পর এক এ লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্নণাদেয় এ দম্পতি ।
উল্লেখ্য ২৯ মে বৃষ্টির রাতেও বৃদ্ধার বাড়ীর গেইট ভাঙ্গাসহ একটি ইটের প্রাচীরও ভেঙ্গে ফেলে আব্দুর নুর।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়ায়ুর রহমান সবুজ বলেন, বিষয়টি পারিবারিক তাই তেমন গুরত্ব দেয়া হয়নি। পাশাপাশী আব্দুর
নুর এর সাথে কথা বলতে চাইলে সে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে দ্রত স্থান ত্যাগ করে। অপরদিকে ওসি
সরেস চন্দ্রের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “ হ্যা আমি স্পিকার স্যার এর নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং বিষয়টি স্থানিয়
চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কে নিস্পত্তির দায়িত্ব দিয়েছিলাম।
এলাকাবাসী ও নির্যাতিত অসহায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা দম্পতি পুনরায় মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রসাশনের উর্ধতন কৃর্তৃপক্ষের আশু
হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed