নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা গ্রামের (বাঘেরবাজার সংলগ্ন) মৃত সূর্যত আলীর সন্তান রফিকুল ইসলামের নামে একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে জয়দেবপুর থানায় গত শুক্রবার [২২ মে ২০২০] একটি চাঁদাবাজি মামলা হয়।
গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লার পক্ষে কারখানার হিসাব ব্যবস্থাপক মৃত গোলাম সরোয়ারের সন্তান শহিদুল ইসলাম (৪৫) বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলা হওয়ার পর প্রতিবেদক মামলার বাদীর সাথে মামলা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ওই কারখানায় চাকরি করি। আমাকে সই দিতে বলছে তাই আমি মামলার কাগজে সই দিয়েছি। মামলার ব্যাপারে মূল ঘটনা (বিস্তারিত) কিছুই জানিনা।
যেহেতু বাদী চাকরি করার সুবাদে চাপে পড়ে মামলার কাগজে স্বাক্ষর করেছেন, সেহেতু বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ করলে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিৎ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তারা আরও জানায়, ‘খবরবাংলাদেশ ডটকম ও ‘আজকেরবাংলাসংবাদ ডটকম নামক পোর্টালে রফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে “গাজীপুরে চাঁদাবাজ রফিকের বিরুদ্ধে যত অপকর্মের অভিযোগ” শিরোনামে তথ্য যাচাই না করে শুধু মামলা সূত্রে খবর আকারে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সেখানে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল: ওই খবরে স্থানীয় হাজী মান্নান, আফসার উদ্দিন, রাফিকুল মাষ্টার, কাজী সোহেল রানা ও ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিকের নাম উল্লেখ করে তাদের বরাত দিয়ে রফিকুল ইসলামকে চাঁদাবাজ বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে ভয়ংকর মিথ্যাচার করা হয়েছে! তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই তথ্যগুলোও মিথ্যা ছিল।
যাদের বরাত দিয়ে রফিকুল ইসলামকে চাঁদাবাজ বলা হয়েছে তারা প্রতিবেদককে ভিডিয়ো বক্তব্যে যা জানিয়েছেন: হাজী মান্নান বলেন, চাঁদা কিসের আবার ? ৪০ বছর যাবৎ কষ্ট করতেছি রাস্তার জন্য, রাস্তা করতে যেখানে যা লেগেছে অর্থাৎ রাস্তা সংক্রান্ত বিষয়ে যা খরচ হয়েছে আমরা সকলে মিলে করেছি। রাস্তার জন্য মাটি কিনতে হয়েছে, মাটি আনতে গাড়ীভাড়া দিতে হয়েছে, লেবার খরচ হয়েছে, এসব খরচ সকলে মিলে সকলের পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়েছে। কাউকে চাঁদা দেওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি।
আফসার উদ্দিন জানিয়েছেন, এখানে যে রাস্তাটা এটা অনেক পুরাতন রাস্তা। বর্ষাকালে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা সকলে মিলে রাস্তাটি করেছি। কাউকে কোনও চাঁদা দেওয়া হয়নি।
রাফিকুল মাষ্টার জানিয়েছেন, ওই খবরে বলা হয়েছে, “আমার হাতে ৩০ হাজার টাকা রফিকুল ইসলামকে চাঁদা দেওয়া হয়েছে”, ‘প্রকৃতপক্ষে এ কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এমন কোনও কথা কাউকে বলিনি, তারা এই কথা কোথায় পেল, তাও আমার জানা নেই’। আমি যেহেতু এই কথা বলিনি আমার নাম প্রচার করে এসব কথা ছড়ানোর মানে কি ? কেন লিখলো’ ?
ওই নিউজে কাজী সোহেল রানার বরাত দিয়ে “জিম্মি করে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে রফিকুল ইসলাম” এই তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাজী সোহেল রাতর সাথে বলে জানা যায়, রাস্তা বাবদ আমি ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি, কেউ আমাকে জিম্মি করে টাকা নেয়নি। সকলে মিলে রাস্তার কাজের জন্য নির্ধারিত চাঁদা দিয়ে রাস্তার কাজটি করা হয়েছে”।
ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক জানিয়েছেন, ‘রফিকুল ইসলাম ‘ভালো নাকি খারাপ’ এমন কোনও মন্তব্য আমি কারও সাথে করিনি। গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা জায়গা কিনছে এমনটা শুনছি। কিন্তু রফিকুল ইসলাম দাবি করছে এটা তার জায়গা। প্রকৃতপক্ষে জায়গার কাগজে কথা বলবে জমির প্রকৃত মালিক কে। আমি সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেছিলাম, তার ভালোমন্দ সম্পর্কে মন্তব্য করিনি’।
এছাড়াও স্থানীয় বাবুল সরকার (৫৫), শামসুদ্দিন (৪২), গাফফার (৪০), জনী (৩৫), জয়নাল ডাক্তার (৬০), কাজী মোজাম্মেল (৩২), বিউটি আক্তার (২৭), ও মজিবর রহমান (৪৫) প্রতিবেদককে ভিডিয়ো সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তারা সবাই জানিয়েছেন, রাস্তা সংক্রান্ত বিষয় অথবা অন্য কোনও বিষয়ে কাউকে চাঁদা দেওয়া হয়নি। যা ওই খবরে যা প্রকাশ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
কারখানা কর্তৃপক্ষের থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারকারীরা এমনটা করে থাকতে পারে।
Leave a Reply