নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ শাওন শেখ
শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের আওতায় দেশের ১৫ টি চিনিকলের সাথে মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তিন মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটে ভুগছে। আর সেই সাথে চলছে মানবেতর জীবনযাপন। অন্যদিকে মিলসগেট এলাকার আখচাষীদের আখের মূল্য বাবদ তাদের পাওনা রয়েছে ৪ কোটি টাকা। আখচাষী ও শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে আজ বুধবার সকাল ৯ টায় মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের প্রধান ফটকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ১ ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি শাহ্ মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু, আখচাষী কল্যাণ সংস্তার সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, শ্রমজীবি ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বারিক বিশ্বাস প্রমুখ।জানা যায়, এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৩০ লক্ষ লোক রয়েছে। আখচাষী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী,কর্মকর্তাসহ এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টসকলকেই হা-হুতাশায় ভুগতে দেখা যায়। কারণ হিসেবে জানা যায়, সময়মত আখচাষীদের পাওনা পরিশোধ না করা, কর্মরতদের সময়মত বেতন-ভাতা না পাওয়া, সময়মত চিনি বাজার ধরে না রাখা ইত্যাদি। বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীল না থাকায় এক দিকে যেমন সমস্যা অন্যদিকে দোকান হতে দীর্ঘদিন বাকিতে নিত্যপণ্য খাওয়ায় মোটা অংকের দেনা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের বাজার করতে পারছে না চিনিশিল্পে কর্মরতরা। চিনিকলে কর্মরত প্রায় ৮‘শত শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দ ফেব্রæয়ারী, মার্চ , এপ্রিল ও চলতি মে মাসের বেতন না পেয়ে আর্থিক সংকটে দিন অতিবাহিত করছে। ঠিকমত নিত্যপণ্যের বাজার না করতে পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেস তারা। এদিকে ফরিদপুর চিনিকলে আখচাষীদের আখের মূল্য বাবদ প্রায় ৪ কোটি এবং স্থায়ী ও মৌসুমী এবং দৈনিক ভিত্তিতে (ম্যান-ডে) মুজরী কমিশনের কর্মরতদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৯ কোটি, অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রায় ১৮ কোটি সহ মোট ৩১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এদিকে আখের মূল্য সময়মত না পেয়ে আখচাষীরা আখের আবাদ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এমনিতে আখ দীর্ঘ মেয়াদী কৃষি ফসল। জমিতে দীর্ঘদিন রাখতে হয়। এর পর আখ মিলে সরবরাহ করে সময়মত আখের মূল্য বাবদ টাকা না পেয়ে আখচাষীদের আর ধৈর্য্যর সীমা থাকছেনা। আর এ কারণে আখ চাষ ক্রমান্ময়ে হ্রাস পাচ্ছে।ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু জানান, বেতন-ভাতা না পেয়ে আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ মানবেতর জীবনযাপন করছে। মানবতার নেত্রী ও শিল্পবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মানবিক আবেদন জানিয়ে বলেন, এই শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন-ভাতা, আখচাষীদের আখের মূল্য পরিশোধ ও অবসর প্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি বাবদ পাওনা টাকা পরিশোধ এর বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন৷
Leave a Reply