July 20, 2026

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন বাজসীময়তুশ শরফের পীর হযরত মাওলানা কুতুবউদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

0
FB_IMG_15900538612208252

 

মাহামুদ চট্টগ্রাম থেকেঃ  

 

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন বাজসীময়তুশ শরফের পীর হযরত মাওলানা কুতুবউদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

গতকাল বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীর মাওলানা কুতুবউদ্দিনের ভাগনে আবু জাহেদ মো. সাদেক।

এদিকে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন,বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর কেবলা শাহ সুফি মওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর বড় জামাতা মওলানা নুরুল ইসলাম আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)।
এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের নিচ তলায় চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। দুই প্রখ্যাত আলেমের মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মাওলানা কুতুব উদ্দীন দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। সোমবার (১৮ মে) তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হওয়ার কারণে তিনি ধর্মীয় মহলে বাহরুল উলুম (জ্ঞানের সাগর) নামেও পরিচিত।

মাওলানা কুতুব উদ্দীন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নের সূফী মিয়াজী পাড়া গ্রামের সন্তান। লেখাপড়া করেছেন চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ও চট্টগ্রাম শহরের দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায়। তিনি ১৯৫৯ সালে স্বর্ণপদক সহ প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে কামিল পাস করেন।

হাদিস বিশারদ ও কুরআনের তাফসিরকারক মাওলানা কুতুব উদ্দীন আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষাবিদ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান। কর্মজীবনে তিনি বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের সেরা অধ্যক্ষের পুরস্কারও অর্জন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকার ধনিয়ালা পাড়ায় অবস্থিত বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত সূফীসাধক মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতার (রহ) এবং বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার শাহ সূফী মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার (রহ) এর সান্নিধ্যে অবস্থান করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন। ১৯৯৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি বায়তুশ শরফের পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর লিখা একাধিক বিখ্যাত ধর্মীয় গ্রন্থও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed