রাজাপুর প্রতিনিধিঃ
রাজাপুর উপজেলার উত্তর নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের মকবুল হোসেন’র বয়স ৮০ পেরিয়েছে। স্ত্রী মারা যাওয়ায় নিঃসন্তানী মকবুলের আপন কোনো ভাই-বোনও নেই তার। বছর দশেক আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তিনি। সুস্থ্যতা নিয়ে বেঁচে থাকার আশায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভিটেমাটি সব বিক্রি করে শেষ করেছেন। মসজিদের খেদমত করে, বারান্দায় রাত্রি যাপন করতেন তিনি। এভাবে কাটে তার প্রায় ২ বছর। ইতিমধ্যে হোচট খেয়ে পড়ে তার বাম উরু ভেঙে যায়। চলাফেরায় সম্পুর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। কারামাতিয়া জামে মসজিদের পাশে টিনের একটি খুপরি ঘর তৈরী মসজিদ কমিটি তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন। এতে রোদ, বৃষ্টি ও শীতে মাথা গোজার ঠাই হয় তার। আহার চলে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয়দের দান-অনুদানে। এরকম একজন অসহায় ব্যক্তি এখনও কোনো সরকারী বা বেসরকারী ত্রাণ সহযোগিতা পান নি। তার প্রশ্ন আর কত অসহায় হলে সহায়তা পাওয়া যাবে? সোমবার সকালে প্রতিবেদক তার সাথে কথা বলে এমন একটি মানবিক স্টোরী সচিত্র ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। তা দেখে দৃষ্টি গোচর হয় রাজাপুর শহর ছাত্রলীগের সভাপতি খান রিজভী সাব্বিরের। তিনি স্বশরীরে বিকেলে তাঁর (মকবুল) কাছে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন এবং স্বাভাবিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ছাত্রলীগ সভাপতি রিজভী সাব্বির জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেখে তাকে সহায়তা করা হয়েছে। সেই সাথে তার যাবতীয় স্বাভাবিক চিকিৎসার ব্যায়ভার বহনের কথাও তাকে বলা হয়েছে। এছাড়াও ধরনের করোনা ভাইরাস সংকটে কর্মহীন, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের জন্য খাদ্য সহায়তা নিয়ে সোমবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের অসহায় পরিবারের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রী ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের এমপি আলহাজ্ব আমির হোসেন আমুর পক্ষে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের নির্দেশনায় নিজ অর্থায়নে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন। জানা গেছে, করোনায় গৃহবন্ধী কর্মহীন মানুষের খাদ্য সংকট মেটাতে প্রতি পরিবারকে চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ ও তৈলসহ খাদ্য সামগ্রী প্যাকেট করতে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা খান রিজভী সাব্বিরের নেতৃত্বে রোববার দিনে ও রাতে তার বাসায় কাজ করেন। খান রিজভী সাব্বির জানান, মানুষের খাদ্য সংকট ও অসহায়ত্ব দেখে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে মানুষের পাশে দাড়নোর ইচ্ছা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মূল আদর্শ মানবসেবায় কাজ শুরু করেছি। গোপনে খোঁজ নিয়ে একদম অসহায় ও চরম সংকটে পড়া ব্যক্তিদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যে সামগ্রী পৌছে দেয়া হচ্ছে। অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেখানে সচরাচর খাবার পৌছে না, এমন স্থানে নিজ হাতে খাবার ব্যাগ বহন করে পৌছে দেয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করেছে। সাব্বির জানান, এ খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। সমাজে এখন অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে, এখন সকলের এগিয়ে আসা উচিত। খাবার নিয়ে পাশে দাড়ানো প্রয়োজন।
Leave a Reply