July 27, 2026

শার্শা উপজেলায় করোনার প্রভাবে শ্রমিক সংকট ও কামারের দোকান বন্ধ থাকায় দিশেহারা কৃষক

0
received_221558502446563

বেনাপোল থেকেঃ

যশোরের শার্শা উপজেলায় করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটার শ্রমিক সংকট আবার জনসমাগম হলে করোনা আক্রান্তের ঝুকি অন্যদিকে ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা নিয়েই ইরি ধান কাটা শুরু হবে এক সপ্তাহ পর।ধান কাটার মৌসুমে প্রতিটি জেলায় লকডাউন হচ্ছে যার জন্য শ্রমিকরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারছে না। শ্রমিক তো নাই নিজেদের ধান কাটার জন্য ব্যবহৃত কাচি পুড়ি ও মেরামতের জন্য কামারের দোকান করোনা ভাইরাসে বন্ধ।

বৃহস্পতিবার (১৬এপ্রিল) সকালে উপজেলায় মাঠে কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এ বছরে ধানের বাম্পার ফলন এক সপ্তাহ পরেধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু এখনি শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে।কি করে ঘরে ধান উঠাবো বুঝে উঠতে পারছি না।নিজেরা কাটবো তা কামারের দোকানে কাচি পুড়ি ও মেরামত না করলে ধান কাটা যাবে না।সারাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঔষধ ও কাচামালের দোকান খোলার নির্দেশ থাকলেও কামারের দোকান বন্ধ।বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আসতো ধানা কাটার জন্য তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পাচ্ছি না। উপজেলা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ইরি ধানের ফলন অনেক বেশী হয়েছে।

করোনাভাইরাসজনিত কারণে সৃষ্ট শ্রমিক সংকট ও আগাম বন্যা না হলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই সব ধান ঘরে তোলা সম্ভব।শার্শার বেনাপোলের বড় আঁচড়া গ্রামের কৃষক সোয়েদ আলী জানান, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে কৃষকের মুখে সোনালী ধানে সোনালী হাসির ঝিলিক ফুটবে।আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিস এবার ধান রোপণ মৌসুমে তাকে বিনামূল্যে ধানের বীজ, এমওপি ও ডিএপি সার দিয়েছিল। এ সমস্ত বীজ ও সার তার যে জমিতে প্রয়োগ করা হয়েছিল সে জমিগুলোতে অন্যান্য জমির চেয়ে ভাল ফলন হয়েছে।

কৃষক আসাদ বলেন, দুই বিঘা ধান চাষ করেছেন। জমিতে সময়মত সেত,কিটনাশক, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তার জমিতে যে ধান হয়েছে। অতীতে কোন সময়ে এর চেয়ে ভাল ধান আর হয়নি।তিনি আরো বলেন, চারিদিকে করোনা ভাইরাসে সবাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছে, এ সময় ধানের ক্ষেত কিভাবে গোছাবো বুঝেতে পারছিনা নেই শ্রমিক তারপরও নিজেরা যে ধান কাটবো তা যন্ত্রপাতি মেরামতের কামারের দোকান ও বন্ধ। সরকার কৃষকের দিকে লক্ষ্য না রাখে তা হলে কৃষকের জমির ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে,এমতা অবস্থায় কামারের দোকান কিছু সময়ের জন্য খোলার অনুমতি দেয়।

শার্শা উপজেলা অফিসার পূলক কুমার মন্ডল বলেন,করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সরকার ঘোষিত আইন মোতাবেক সব লকডাউন করা হচ্ছে। সব পৌর ও ইউনিয়নে বাজার কমিটিদের সরকারের নির্দেশ মোতাবেক বাজার কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।সেহেতু আমাদের দেশ কৃষি মাতৃক দেশ সে ক্ষেত্রে কামারের দোকান আংশিক খোলা রাখা যায় কি না তার জন্য সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন করা হবে।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার সৌতম কুমার শীল বলেন, উপজেলায় ইরি ধানের জমি ঘুরে দেখেছেন। কৃষকদের সাথে আলাপ করে তিনি খুবই আনন্দিত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়া এবার ইরি ফসল বেশী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তবে করোনার প্রভাব ওপ্রাকৃতিক দুর্যোক কাটিয়ে কি পরিমান ফসল পবো তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না।।ফলন ভাল হওয়ায় সর্বোচ্চ পরিমান ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed