রাজশাহীতে লাউ চাষে কৃষকের মহা খুশি
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় লাউ চাষ করে ভাগ্য বদল অনেক কৃষকের। খুচরা ও পাইকারি দাম ভাল পাওয়ায় মহা খুশি লাউচাষীরা।
একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ফসলের মাঠে মাচায় মাচায় লাউয়ের সমারোহ। মধুমতি ও বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চ আগাম জাতের লাউয়ের আবাদ করেছেন তারা। তবে মধুমতি জাতটা ৯০ ভাগের বেশি কৃষক চাষ করেন। এ জাতের লাউচাষ করে তারা প্রতি বিঘা জমি থেকে লাভ করছেন এক লাখ টাকা পর্যন্ত। কৃষকের উৎপাদিত লাউ এখন গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার গুলো ভরপুর। উৎপাদিত লাউ প্রতিদিন উপজেলা ও জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হাটবাজার, বিভিন্ন মোড় ও জমিতেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত লাউ। বর্তমানে প্রতিটি লাউ ২৫-২৮টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন পাইকারি ব্যবসায়িরা হাটবাজার, বিভিন্ন মোড় ও কৃষকের জমি থেকে সরাসরি লাউ কিনছেন। দুপুর নাগাদ ক্রয়কৃত লাউ ট্রাকে ট্রাকে পসরা সাঁজাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসব লাউ ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হবে। এ বছর শুরুতে উপজেলার প্রায় হাটে-বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন ভর মৌসুম উৎপাদন বেশি হওয়ায় প্রাইকারি বিক্রি হচ্ছে একটু কম দামে। রাজশাহীর অঞ্চলের উর্বর মাটির লাউ স্বাদে ভরপুর। এ জন্য সারাদেশে এ অঞ্চলের লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত বছর চাহিদা ও দাম কম থাকায় লোকশান গুণতে হয় কৃষকদের। তবে এবার উৎপাদন ও হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের চাহিদা বেশি হলেও ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
দুর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৮০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের লাউচাষ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর চাইতেও বেশি জমিতে এবার উন্নত জাতের লাউচাষ হয়েছে। উপজেলার জয়নগর, কানপাড়া, চুনিয়াপাড়া, কলনটিয়া, বাজুখলসী, পানানগর, শালঘরিয়া, নামোদুরখালী, নওপাড়া, সিংগা, মোহাম্মাদপুর, আড়ইল এলাকায় সবচেয়ে বেশি লাউচাষ হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক খেতেই বিক্রি করছেন লাউ। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাইকারেরা এসে লাউ কিনছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব লাউ চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে। ফলে লাভবান হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা।
হাটকানপাড়া এলাকার লাউচাষি আশরাফ আলী বলেন, বর্ষাকালে লাউয়ের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পর্যন্ত এলাকায় ভারী বর্ষণ না হওয়া লাউয়ের ব্যাপক উৎপাদন হচ্ছে। এবার প্রচুর পরিমাণ লাউ চাষ হয়েছে। দাম ভাল পাচ্ছেন চাষিরা। তিনি বলেন, জমি থেকে আলু উঠানোর পর প্রায় দুই বিঘার বেশি জমিতে মাচায় লাউ চাষ করেছেন। এসব লাউ জমি থেকেই পাইকাররা এসে কিনে নিচ্ছেন। দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। লাউ চাষে এবার অধিক লাভবান হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
পাইকারি ব্যবসায়ী রুহুল হক ওরুপে হক সাহেব বলেন, এ উপজেলা থেকে প্রতিদিন দুই ট্রাক লাউ পাঠান বাহিরে। রাজশাহীর জমিগুলো প্রচুর উর্বর। কৃষকের জমিতে মাচায় মাচায় ঝাঁকে ঝাঁকে লাউ ঝুলে আছে। লাউয়ে কোন সঙ্কট নেই। কৃষকের বিক্রিত এসব লাউ তিনি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ পাঠায়। তিনি বলেন, গত বছর লাউয়ের দাম কম ছিল। এখন ভর মৌসুম উৎপাদন বেশি হচ্ছে। কিন্তু এবার উৎপাদন বেশি হলেও লাউয়ের দাম বেশি। প্রতিটি লাউ কিনছি ২৫ টাকার মধ্যেই। এতে কৃষকরাও খুশি আছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান বলেন, উৎপাদন খরচ ও কায়িক পরিশ্রম কম হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ লাউ চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরা আলু পেঁয়াজ উঠানোর পর জমিতে লাউয়ের বীজ বোপণ করেন। লাউখেতে তেমন একটা পরিশ্রম করতে হয় না। ফলে সীমিত খরচে লাউচাষে অধিক লাভবান হোন চাষীরা। তিনি বলেন, বাহিরে এ অঞ্চলের লাউয়ের চাহিদার রয়েছে ব্যাপক। প্রতিদিন হাটবাজার ও সরাসরি কৃষকের জমি থেকে লাউ কিনেন পাইকাররা। তারপর এসব সু-স্বাদু লাউ সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। এবছর লাউয়ের দাম ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা।