ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
খুলনার দাকোপে ৪ নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নে জমাজমি সংক্রান্ত বিষয়ে অন্যায় ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের প্রশান্ত সরকার ও শচীন্দ্র নাথ সরকার গংদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলিয়া আসিতেছে।প্রশান্ত সরকারের পিতা পিযুষ সরকার নালিশি জমিতে দেঃ ১০৬/২০১৪ নং মামলা দায়ের করে। জমিতে ফসল উৎপাদন নিয়ে উভয় পক্ষে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া চলে।এলাকায় চরম অশান্তি বিরাজ করিতে থাকে।এক পর্যায়ে ০২/০৯/২০১৫ ইং তারিখ রোজ বুধবার সন্ধ্যায় বোর্ডবাড়ি মৈত্রী সেতুর উপর স্থানীয় শান্তি স্থাপক সুধীবৃন্দ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে দেঃ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১ম পক্ষ শচীন্দ্র নাথ সরকার গং ৬ বিঘা জমি ও ২য় পক্ষ পিযুষ চন্দ্র সরকার ৫ বিঘা জমি ভোগদখল করিতে থাকিবে মর্মে একটি আপোষনামা লিখিত হয়।উভয় পক্ষের আন্তরিক সম্মতিতে উক্ত আপোষনামা ধোপাদী নিবাসী আমীন গৌরঙ্গ মন্ডল লিপিবদ্ধ করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আপোষনামা না মেনেই শচীন্দ্র নাথ সরকার গং প্রশান্ত সরকারদের উপর জোর জুলুম করে সম্পত্তি দখলের নেশায় মেতে ওঠে। তখন প্রশান্ত সরকারের স্ত্রী স্মৃতিকনা সরকার খুলনা -১ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন করিলে ০৩/০৮/২০১৮ ইং তারিখ নির্বাহী কর্মকর্তা দাকোপকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। তাতেও সুরাহা না পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বিষয়টি কৈলাশগঞ্জ ০৮ নং ওয়ার্ড মেম্বরের উপর দায়িত্ব দেন ২৪/০৭/২০১৯ । উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বিরোধীরা না মানলে ২২/১২/২০২১ তারিখ দাকোপ থানায় স্মৃতিকনা সরকার ৮৬৫ নং জি ডি করেন। তারপর ১২/০১/২০২২ তারিখ একদল সন্ত্রাসী বাহিনীর সমন্বয়ে নালিশি জমিতে শচীন্দ্র নাথ সরকার গং ধান কাটতে গেলে প্রশান্ত সরকার গং ধান কাটায় বাঁধা দেয়। তখন বিরোধী শচীন্দ্র নাথ সরকার গংদের লাঠিয়াল বাহিনী দা, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে খুন জখম করে ধান কেটে নিয়ে যায়। সেই সময় জখমী স্মৃতিকনা সরকার স্বামী প্রশান্ত সরকার দাকোপ থানায় ১৩/০১/২২ তারিখ ০৩/২২ নং মামলা দায়ের করে। নালিশি জমি নিয়ে জজ কোর্ট খুলনাতে দেঃ মামলা নং ১০৬/১৪ চলমান। ভুক্তভোগী স্মৃতিকনা সরকার বলেন, ” থানা, নির্বাহী কর্মকর্তা দাকোপ ও সেনা দপ্তরে যেয়েও কোন সমাধান পাচ্ছিনা আমাদের টাকা ও লোকবল নেই বলে ” । সচেতন মহল বলেন, ” জজ কোর্ট খুলনাতে দেঃ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রশাসন কিভাবে একপক্ষকে ধান কাটার নির্দেশ দেন তা বোধগম্য নয় ” ।
Leave a Reply