শেখ হাসিনার হঠাৎ দেশত্যাগে আওয়ামী লীগে ক্ষোভ-হতাশা
ডেস্ক রিপোর্টঃ
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার আগ পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের কোনোরকম বার্তা কিংবা ইঙ্গিত দেননি শেখ হাসিনা। এমনকি দলের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। এ কারণে বেশিরভাগ নেতাই পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেননি। দলের সভাপতি হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছেন তারা। সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার পর অনেকে আত্মগোপনে যাওয়ারও সময় পাননি। বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে এরই মধ্যে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। কোনোরকমে প্রাণে বেঁচেছেন কেউ কেউ। বেশিরভাগ আত্মগোপনে থাকলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা। শুধু তাই নয়, এমন পরিস্থিতি তৈরির জন্য শেখ হাসিনার ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করছেন অনেক নেতা।
গত সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেন। এর পরই সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা শুরু হয়। আক্রান্ত হয় বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩/এ সড়কে সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু রাজধানী নয়, প্রায় প্রতিটি জেলায় আওয়ামী লীগের শাখা, সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতারা হামলা আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। যারা সুযোগ পেয়েছেন দেশ ছেড়ে গেছেন। বেশিরভাগ নেতার মোবাইল ফোন বন্ধ। তবে কেউ কেউ বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখছেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন। এমনকি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ ও মাঝারি সারির নেতারাও দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ।
সদ্য ক্ষমতা হারানো দলটির একজন নেতা কালবেলাকে বলেন, আত্মগোপনে থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের খোঁজখবরও নিতে পারছি না। কারণ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তীর্যক কথাবার্তা শুনতে হচ্ছে। কেন আগে থেকেই কোনো নির্দেশনা বা ইঙ্গিত দেওয়া হলো না, কেন দলে এত সমন্বয়হীনতা—এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারি না। এভাবে কেন বিপদে ফেলে দেশের বাইরে চলে গেলেন নেতারা—তার কোনো উত্তরও জানা নেই।