July 29, 2026

এবার সেই গর্ভবতী নারীর সন্তানের নাম রাখলেন র্যাব ৯ কমান্ডার এএসপি আনোয়ার

0
received_1085469055161895

 

বিশেষ প্রতিনিধি, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম আল আমিন।

গত ২৬ এপ্রিল মধ্যরাত। প্রসবকালীন জটিলতায় জীবন সংশয়ে পড়া এক প্রসূতি নারীকে নিজের সরকারি গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম। শুধু তাই নয়, শিল্পী রানি পাল নামের এই নারীকে কোলে করে তিন তলার প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে যান এ র‍্যাব কর্মকর্তা, যা দেশব্যাপী প্রশংসার ঝড় তোলে। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিরাপদে পুত্র সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পরের দিনই নারীর স্বামী রনজিত দাস এএসপি আনোয়ারকে ফোন করে নবজাতকের নাম ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সন্তান জন্মলাভের প্রায় এক সপ্তাহ পর আজ ছিল নবাগত শিশুটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা। যথাসময়ে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন দক্ষিণ উত্তরসূর গ্রামে রনজিত দাসের বসতবাড়িতে উপস্থিত হয়ে শিশুটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখেন র‍্যাব কর্মকর্তা। তার অনুরোধে কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত একেবারে ঘরোয়াভাবে সম্পন্ন হয় নামকরণের প্রথা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওই বাড়ির কাউকে বাইরে আসতে দেননি, এমনকি তিনি নিজেও যাননি ঘরের মধ্যে। দরজার সামনে উঁকি দিয়ে তিনি বাচ্চাটির নামকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি নবজাতকের হাতে একটি কলম তুলে দেন এবং তার মায়ের জন্য কিছু উপহারসামগ্রীও হস্তান্তর করেন। এ প্রসঙ্গে বাচ্চাটির মা শিল্পী রানী পাল বলেন, স্যার যে আমাদের বাড়িতে এসে আমার সন্তানের নাম রেখে গেলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। আমি চাই, আমার ছেলে বড় হয়ে যেন স্যারের মতোই একজন মানুষ হয়।

বাচ্চাটির নাম শচীন চন্দ্র দাস রাখার কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের একজন বড় ভক্ত আমি। তাছাড়া ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখতেও অনেক পছন্দ করতাম সেই ছোটবেলা থেকে৷ এই দুজনের মহাগুণী মানুষের নামের সাথে মিলিয়েই শিশুটির নাম রেখেছি আমি। তিনি আরো বলেন, ছেলেটি বড় হয়ে কি হবে- না হবে, অনেক পয়সাওয়ালা বা জ্ঞানীগুণী হবে কিনা, তা নিয়ে আমার কোন চাওয়া নেই। শুধু চাই, সে যেন একজন মানুষ হয়। মানবজাতি এবং অন্য সকল সৃষ্ট জীবের প্রতি গভীর ভালবাসা বুকে ধারণ করেই যেন সে বেড়ে ওঠে- মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট নবজাতকের জন্য এটাই আমার দোয়া।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পর এএসপি আনোয়ার তার মানবিক কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। তিনি ৩৪ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন উত্তর বড়বিল গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বিলকিস বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed