৭ বছর পর বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসা ভারতকে প্রথম ওয়ানডেতেই অস্বস্তিতে ফেলে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিশে^র অন্যতম ব্যাটিং শক্তির দলটি। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা রোহিত শর্মার দলের একের এক উইকেট নিতে থাকেন বিশে^র অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ১০ ওভার বল করে ৩৬ রানে সাকিব একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই পারফরম্যান্সে দারুণ এক রেকর্ড গড়া হয়ে গেছে সাকিবের। বাংলাদেশের হয়ে এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখন তারই। ৩৫ বছর ২৫৫ দিন বয়সে এলো তার ৫ উইকেট। ৩৫ বছর ১৯৯ দিন বয়সের আগের রেকর্ডটি ছিল আরেকটি বাঁহাতি স্পিন গ্রেট মোহাম্মদ রফিকের। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ফতুল্লায় সেদিন ৪৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, ক্যারিয়ারের একটি আক্ষেপের জায়গাও ঘুচিয়ে দিয়েছেন তিনি এদিন।
বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হয়ে গেছেন তিনি অনেক আগেই। ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে কতো অসাধারণ সব পারফরম্যান্স তার। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের যেকোনো মানদণ্ডেও গ্রেট। তবে ভারতের বিপক্ষে বল হাতে তার পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না। এই ম্যাচের আগে ভারতের বিপক্ষে ১৮ ওয়ানডেতে তার উইকেট ছিল ১৯টি। ইনিংসে ৪ উইকেট ছিল না একটিও। বোলিং গড় ছিল ৪০.০৫! সাকিব যে মানের বোলার, এই বিবর্ণ রেকর্ড তার অহমে আঘাত করারই কথা। এবার শুধু ৪ উইকেটই নয়, ৫ উইকেটের সাফল্যে রাঙালেন নিজেকে। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনে ৫ উইকেট বিশ্ব ক্রিকেটেই আছে কেবল আর একজনের। ২০০২ সালে দিল্লিতে ৫৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অ্যাশলি জাইলস। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে ৪ বার ৫ উইকেট হয়ে গেল সাকিবের। স্পর্শ করলেন তিনি আব্দুর রাজ্জাককে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাদের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট আছে (৫ বার) কেবল মোস্তাফিজুর রহমানের। এ পর্যন্ত সাকিব ২২২ ম্যাচে ঝুলিতে ভরেছেন ২৯০ উইকেট।
Leave a Reply