দেখতে দেখতে বলিউডে এক যুগ পার করে দিলেন হুমা কুরেশি। নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে হিন্দি সিনেমার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘মনিকা, ও মাই ডার্লিং’ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও নজর কেড়েছেন। প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারের প্রথমেই উঠে আসে তাঁর সেই নাচের প্রসঙ্গ। একগাল হেসে বলেন, ‘দেখেছেন নিশ্চয়? নাচটা আমি বেশ ভালোই পারি। জানি না ছবিতে আমাকে কেউ কেন নাচার সুযোগ দেয় না। ৯০ দশকের সিনেমা দেখেই আমার নাচ শেখা। আমি নাচতে ভালোবাসি।’
কিছুদিন আগে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ক্রাইম-থ্রিলার ছবি ‘মনিকা, ও মাই ডার্লিং’। ভাসান বালা পরিচালিত এ ছবিতে হুমাকে লাস্যময়ী মেয়ে মনিকা চরিত্রে দেখা গেছে। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার এ চরিত্রের কৃতিত্ব আমি পরিচালক ভাসান বালাকে দিতে চাই। ইন্ডাস্ট্রিতে তথাকথিত ‘‘হট গার্ল’’ থাকতে আমাকে কেন এ হট চরিত্রে নেওয়া হলো, তা নিয়ে আমি প্রশ্ন করেছিলাম। পরিচালক আমাকে বলেছিলেন, পর্দায় আমাকে আলাদা কিছু করতে হবে। আমি সেটাই করেছি।’
বলিউডে ১০ বছরের ভ্রমণকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন জানতে চাইলে হুমা হেসে বলেন, ‘এ সফর বেশ রোমাঞ্চকর। মুম্বাইয়ে আসার পর খুব খুশি ছিলাম। কারণ, এই শহরে আমি একা থাকব, নিজের মতো চলব। যখন ইচ্ছা হবে ঘুম থেকে উঠব। শুরুতে বিজ্ঞাপনচিত্র, এরপর ধীরে ধীরে ছবিতে কাজের সুযোগ পেতে শুরু করলাম। মাঝে যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলাম। নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর ফিরে আসার জন্য এক অদ্ভুত জেদ চেপে বসে। তারপর আমি আবার ফিরে আসি।’
এই বলিউড অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার কোনো পরামর্শক ছিল না। অনেকে অনেক রকম পরামর্শ দিতেন। কিন্তু কোভিডের এই দুই বছর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। জানি না কাল থাকব কি থাকব না। তাই ভাবলাম, আমার চলার পথকে রুদ্ধ করব না। আমার কাছে যে কাজ আসবে, মজার সঙ্গে করব। কাজকে উপভোগ করব।’
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে এসেছেন হুমা। তবে এ নিয়ে কখনো আক্ষেপ করেননি, ‘দুঃখ, সংগ্রাম সবার জীবনে থাকে। এ আর নতুন কথা কী। আপনার ভাগ্য আপনার থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। কারও ব্যাপারে বাজে চিন্তা করলে তা নিজের ওপরই আসে।’
গত মাসে মুক্তি পেয়েছে হুমার ‘ডাবল এক্সএল’। এ ছবিতে তাঁকে এক স্থূলকায় তরুণীর চরিত্রে দেখা গেছে। চরিত্রের প্রয়োজনে প্রায় ২০ কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন তিনি। একসময় বাস্তবেও হুমার ওজন বেশি ছিল। এ নিয়ে নানাভাবে তাঁকে কটাক্ষ করা হতো। যেসব মেয়ে বডি শেমিংয়ের শিকার হন, হুমা কি তাঁদের উদাহরণ হতে চান? জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার জীবনকে নিজের রঙে উপভোগ করছি। আগামী দিনে অসফল হতেও পারি। তাই কারও উদাহরণ হয়ে বাঁচতে চাই না। এটা অনেক বড় দায়িত্ব।’
‘ডাবল এক্সএল’ দিয়ে প্রযোজনায়ও এসেছেন হুমা, ‘আমার মনে হয়েছিল বডি শেমিংয়ের প্রসঙ্গে কিছু বলা উচিত। সেই তাগিদ থেকেই “ডাবল এক্সএল” করেছিলাম। আগামী দিনে এমন আরও ছবি প্রযোজনা করতে চাই, যা পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন। আমার ছবির মাধ্যমে একটু হাসাতে, একটু কাঁদাতে চাই। পাশাপাশি মানুষের কাছে ভালো কিছু বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এর চেয়ে ভালো আর কি-ই বা হতে পারে।’
Leave a Reply