পিঠা উৎসবে মেতেছেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দারা। উৎসবে তাঁদের আপ্যায়নে নকশি পিঠা, কুশলী, ভাপা, দুধ পিঠা, নারকেল পিঠা, গোলাপ পিঠা, পাটিসাপটাসহ বানানো হয় ১২ রকমের ৩০ হাজার পিঠা। এসব পিঠা বিনা মূল্যে খেতে দেওয়া হয় অতিথিদের। পিঠার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজন করা হয় ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতির উদ্যোগে।
আজ রোববার বেলা তিনটা থেকে রাত পর্যন্ত কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় ছায়ানীড় কমিউনিটি সেন্টারে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পিঠা উৎসব উপলক্ষে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাউলশিল্পী কাজল দেওয়ান, বাবলি দেওয়ান এবং ক্লোজআপ ওয়ানের শিল্পী নীপা আক্তার।
পিঠা উৎসবে পিঠা খেতে আসা ষাটোর্ধ্ব শামসুল হক বলেন, ‘ছুডু বেলায় মা–বইনদের পিঠাপুলি খাইছি। সেই পিঠাপুলি এহন আর দেখতে পাই না। আইজকা পিঠা খাইতে পাইয়া বড্ড ভালা লাগছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বাঙালির ঐতিহ্যের একটি অংশ হচ্ছে পিঠা। এ দেশের লোকসংস্কৃতিরও মানুষের প্রিয় গ্রামবাংলা ঐতিহ্যের পিঠাপুলি। এর আগে ঢাকায় এত বড় পরিসরে বিনা মূল্যে পিঠা উৎসব দেখিনি। পিঠা খাওয়ানোর পাশাপাশি গান শুনতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’
পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও কেরানীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা মহসিন মন্টু। তিনি বলেন, কালের আবর্তে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পিঠাপুলি তৈরি ও খাওয়া বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পিঠা আবারও মানুষের মধ্যে ধরে রাখার জন্য ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতির পিঠা উৎসবের আয়োজনটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ পিঠা উৎসবে এসে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মা-বোনদের তৈরি পিঠা খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পিঠা উৎসব উপলক্ষে মধ্যরাত থেকে অর্ধশতাধিক দেশীয় চুলায় পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি করেছেন শতাধিক কর্মী। ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতি ২০১৮ সাল থেকে এ ধরনের আয়োজন করে আসছে। তবে করোনা মহামারির মধ্যে বিধিনিষেধের জন্য গত দুই বছর খুব একটা জমেনি এ মেলা। ব্যাপক পরিসরে হচ্ছে এবারের আয়োজন।
Leave a Reply