গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ, তা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন আছে। প্রথমবার (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি) বিনা ভোটে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতেই জয় নিয়ে এসেছিল দলটি। তখন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের কৌশল কাজে লাগেনি। দ্বিতীয়বার (২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যদিও ওই নির্বাচনে ‘আগের রাতেই ভোট’ হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ, ‘মেজর না মাইনর’ এই তর্ক–বিতর্কের মধ্যেই ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদেরও চার বছর পার করতে চলেছে আওয়ামী লীগ।
এত কিছুর পরও কোন জায়গায় আওয়ামী লীগ শক্তি–সামর্থ্য দেখাতে পারছে না—সেটি রাখঢাক না করেই বলে দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসবুকে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি ‘একেবারেই দুর্বল’। বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে (এক অর্থে দলেরও) নানা অপপ্রচার হলেও এসবের কাউন্টার (পাল্টা জবাব) দেওয়া হয় না। মিথ্যাচার ও বিষোদ্গারের জবাব দলের নেতা–কর্মীরা ঠিকমতো দিতে না পারায় নিজের আক্ষেপের কথাও বলেছেন তিনি।
১৪ নভেম্বর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির বৈঠকে কখনো ক্ষোভ, কখনো আক্ষেপের সুরে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রচার উপকমিটির সদস্যদেরও ফেসবুকে সরব উপস্থিতি তিনি দেখেন না। ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার (অনলাইনে) চলছে—এ কথা জানিয়ে সেদিন দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এগুলোর (অপপ্রচার) জবাব আপনারা দেবেন না?’
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার একক কৃতিত্ব দাবি করা আওয়ামী লীগ ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কেন দুর্বল থাকবে—সেটি নিয়ে এখন দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে।







Leave a Reply