এই দুই অলরাউন্ডারই যেকোনো ম্যাচের পার্থক্য করে দিতে পারে , দুইজনই আছেন ফর্মের তুঙ্গে । এখন দেখা যাক মাঠের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকে ।
বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিকেট গ্রাউন্ড মেলবোর্ন। সেখানেই আজ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের লড়াই। ৯০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে যে লড়াই হবে, তারই এক ড্রেস রিহার্সেল হয়েছে ফাইনালের আগের দিন। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (এমসিজি) ইয়ারা পার্কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ব্যবস্থাপনায় ভক্ত-সমর্থকদের সঙ্গে দুই দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়।
সেখানে ছিলেন পাকিস্তানের সহ-অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শাদাব খান এবং ইংল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার মঈন আলী। উভয় দলের অন্যতম এ দুই অলরাউন্ডার আজ ফাইনালে গড়ে দিতে পারেন পার্থক্য। সেদিক থেকে চলতি আসরে ব্যাট-বলের পারফর্মেন্সে অবশ্য মঈনের চেয়ে বেশ এগিয়ে শাদাব। তার ওপর বেশ নির্ভরশীলও হয়ে পড়েছে পাকিস্তান দল। আর মঈন এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো চমক জাগানো পারফর্মেন্স দেখাতে পারেননি। তবে নিয়মিতই খেলছেন এ ব্যাটিং-অফস্পিন অলরাউন্ডার। যে কোনো মুহূর্তে ব্যাটে-বলে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য অনেক আগেই প্রমাণ করে ইংলিশদের আস্থাভাজন হয়েছেন তিনি।
মঈন এবার বিশ্বকাপে খেলেছেন এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচ। সুপার টুয়েলভ পর্বের একটি ম্যাচ খেলেননি। বাকি ৪টিতেই খেলেন। সেমিফাইনালে একাদশে থাকলেও বোলিং করেননি এবং দল ১০ উইকেটে জেতার কারণে ব্যাটিংয়ের সুযোগও পাননি। বাকি ৪ ম্যাচে ব্যাট হাতে তিনি করেছেন- ৮*, ২৪*, ৫ ও ১। বোলিং করেছেন দুই ম্যাচে ১ ওভার করে, কিন্তু উইকেটের দেখা পাননি। অর্থাৎ এবার বিশ্বকাপে মঈনের বলার মতো কোনো পারফর্মেন্স নেই। যদিও বিশ্বকাপের আগে তার নেতৃত্বে পাকিস্তান সফর করে ইংল্যান্ড।
সেখানে তিনি ব্যাট হাতে দুটি অর্ধশতক হাঁকান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ৩ ম্যাচের সিরিজে ব্যাটিং ভালো করেছেন। নিয়মিতই তিনি সেভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বোলিং করেননি। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবেই খেলছেন মঈন। আজ কি তিনি জ্বলে উঠতে পারবেন? তিনি অবশ্য দলকে নিয়েই ভাবছেন। ভক্তদের সামনে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘গতকাল আমরা ভ্রমণ করেছি, আজকে অনুশীলন আছে। খুব বেশি ভাবার সময় পাইনি। টিম মিটিং পরে হবে। তবে ওদের সঙ্গে সম্প্রতি আমরা অনেক খেলেছি। আমাদের দল খুব ভালো অবস্থায় আছে। আশা করি, আরেকটা ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল পাব আমরা।’
মঈন চলতি বিশ্বকাপে উজ্জ্বলতা ছড়ানোর সুযোগ খুব একটা পাননি। উল্টোটা শাদাবেন ক্ষেত্রে। ২৪ বছর বয়সী এ লেগস্পিন অলরাউন্ডার ব্যাটে-বলে প্রায় সব ম্যাচেই কিছু অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ভারত এবং জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যায় পাকরা। সেখান থেকে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতান শাদাব। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২২ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু পুঁজি পাইয়ে দেন খারাপ অবস্থা থেকে।
বল হাতেও মাত্র ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে জয়ে অবদান রাখেন জয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ডু-অর-ডাই ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এক ওভারে ২ উইকেট তুলে নিয়ে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। সেমিতে অবশ্য কিছুই করতে পারেননি ব্যাটে-বলে। কিন্তু আজ ফাইনালে অধিনায়কের বড় ভরসা শাদাব। তাকে নিয়ে অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, ‘তিনি দলে শক্তির সঞ্চার করেন যা খুবই মূল্যবান।’ পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি জেলায় কৃষক পরিবারে জন্ম শাদাবের। রুক্ষ্ম জমিতেই ক্রিকেট খেলা শুরু করেন।
তার এলাকাতেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের বাড়ি। তাই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অন্যদের চেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হবেন এ তরুন। ভিনদেশ মেলবোর্নেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি ও পাকিস্তান দল। কারণ ইয়ারা পার্কে ভক্ত সমাবেশে ইংলিশদের চেয়ে কয়েকগুণ পাকি সমর্থক ছিল। তাই শাদাব বলেছেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে আমরা দেশেই আছি। যে শহরেই যাচ্ছি, তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে চলেছে। এমনকি, যখন আমরা ভালো করছিলাম না, তখনো তারা ভরসা রেখেছে এবং পাশে থেকেছে। আমরা চেষ্টা করব, ফাইনাল জিতে তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার।
Leave a Reply