জার্মানির স্টুটগার্টে জন্ম নেয়া জামাল মুসিয়ালা যুব ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে। এরপর যোগ দেন বায়ার্ন মিউনিখে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে মাঠ কাঁপানো এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারে সামনে সুযোগ আসে ইংল্যান্ড ও জার্মানি দুই দলের হয়ে খেলার। শেষ পর্যন্ত সে সময়ের জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর সঙ্গে কথা বলে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। দুই বছরেরও কম সময়ে জার্মানির মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী মুসিয়ালা।
কাতার বিশ্বকাপের সম্ভাব্য সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়দের একজন ভাবা হচ্ছে তাকে। অনেকে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করছেন। তার প্রথম লক্ষ্য বিশ্বকাপ উপভোগ করা এবং নির্ভার নৈপুণ্যে দলের সাফল্যে অবদান রাখা। আজ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করবে অন্যতম ফেভারিট জার্মানি। ‘ই’ গ্রুপের অপর দুই দল স্পেন ও কোস্টারিকা।
‘এই বিশ্বকাপে আমাদের অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য আছে। অবশ্যই আমরা শিরোপা জয়ের মানসিকতা নিয়ে কাতারে এসেছি। কোচ, অধিনায়ক সবাই আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিচ্ছে। মাঠে আমি আমার পছন্দ মতো পজিশনে খেলতে পারব। বড় দল, বড় লক্ষ্য এই ভেবে চাপ নিচ্ছি না। একাদশে সুযোগ পেলে আমার লক্ষ্য থাকবে মাঠের খেলাটা উপভোগ করা এবং দলের হয়ে অবদান রাখা।’ বলেন মুসিয়ালা।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে ৯টি গোল করে এবং সতীর্থদের দিয়ে ৬টি গোল করিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছেন উঠতি তারকা। অল্প সময়ের মধ্যেই জার্মানির মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন এই তরুণ। দুরন্ত গতি, নিখুঁত পাসিং, সৃজনশীলতা এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতার কারণে ইতোমধ্যে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ ফুটবলের বড় তারকা হিসেবে মনে করছেন। স্বদেশী কিংবদন্তি লোথার ম্যাথিউসের কাছ থেকে।
জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ম্যাথিউস ১৯ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে মেসির মতো বিরল প্রতিভাধর বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে মুসিয়ালা বলেন, ‘মেসির সঙ্গে তুলনা পাওয়াটা আমার কাছে সম্মানীয় ব্যাপার। এতদিন ধরে শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একজনের সঙ্গে আমার তুলনা করাটা বেশ কঠিন।
আমি শুধু নিজের খেলার দিকে এবং জামাল হিসেবে আমি কী করতে পারি তার দিকে মনোনিবেশ করছি।’ মুসিয়ালার আন্তর্জাতিক ফুটবলের শুরুটা ইংল্যান্ডে, খেলেছেন ইংলিশ যুব দলে। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলেও জায়গা পাওয়ার দিকে এগিয়ে ছিলেন। পরে অবশ্য ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের সঙ্গে মনোমালিন্যে জাতীয় দল হিসেবে বেছে নেন জন্মস্থান জার্মানিকেই।
ইংল্যান্ডের মূল দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলা না হলেও আজকের অবস্থানে আসার পেছনে ইংলিশ যুব দলের হয়ে খেলার সময়টার বড় অবদান রয়েছে বলে স্বীকার করেন মুসিয়ালা। এমনকি সেই সময়ের কোচদের কাছ থেকে পাওয়া উপদেশ আজও মেনে চলেন তিনি। মাত্র দুই বছর আগে জার্মানির জাতীয় দলে অভিষেক হয় জামাল মুসিয়ালার। মাঠে তার নির্লিপ্ত আচরণ নজর কাড়ে ফুটবলবোদ্ধাদের। তবে হালকা গড়নের মাঝারি উচ্চতার এই তরুণ যে এত অল্প সময়ের মাঝেই জার্মানি দলের মাঝমাঠের ভরসার জায়গা এবং ২০২২ বিশ্বকাপে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন, তা বোধহয় কেউই ভাবেননি।
Leave a Reply