কয়েক দিনের আলোচনার পর আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক গতকাল রোববার দৈনিক ক্রাইম তালাশ-২৪ কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৯টি বিভাগীয় সমাবেশ শেষে ঢাকায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। তবে সেখানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিতে নারাজ সরকার। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, ঢাকায় ১০ লাখ লোকের সমাবেশ করলে নয়াপল্টনে এর সংকুলান হবে না। বিএনপি তুরাগ বা পূর্বাচলের কথা ভাবতে পারে। তবে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার দাবিতে অনড় অবস্থান জানিয়ে আসছিলেন বিএনপির নেতারা।
এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গত বৃহস্পতিবার শর্তসাপেক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানান। তাতে রাজি না হওয়া বিএনপির নেতারা বলছিলেন, তাঁরা সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টন চেয়েছিলেন।
বিএনপির চাওয়া নয়াপল্টনের বদলে কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে। জবাবে খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা বিবেচনা করে দেখলাম যে পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশের অনুমতি দিলে এবং সেখানে কয়েক লাখ লোক জমায়েত হলে তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাবে। পার্টি অফিসের সামনে ৫০-৬০ হাজার লোক ধরবে। এতে রাস্তাঘাট ব্লকড হবে। নগরবাসীর কষ্ট হবে। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।’
তা ছাড়া তাঁদের সমাবেশের আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সম্মেলন রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হবে, তেমনি তাঁরা সেখানে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাবেন না।
এরপর ছাত্রলীগের সম্মেলন দুই দিন এগিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল এক দলীয় কর্মসূচিতে বলেন, ‘বিএনপি শুধু একটা অজুহাত দেখাচ্ছে যে ৮ তারিখে ছাত্রলীগের সম্মেলন, কী করে তারা ১০ তারিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে। আজকে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ তারিখে নিয়ে এসেছেন।’
Leave a Reply