বিশেষ প্রতিনিধিঃ
খুলনার দাকোপে আমন ধানের জমিতে ব্যাপক পোকা লেগেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না মর্মে কৃষকদের অভিযোগ। অভিযোগ সূত্রে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কৃষক না বুঝেই শুধুমাত্র ব্যবসায়িদের কাছে মেয়ে তাদের পরামর্শ মত বেশি বেশি বিষ অধিক দামে কিনে জমিতে প্রয়োগ করছে। তাতে কোনো কাজ হচ্ছেনা,৭/৮ দিন যেতে না যেতেই আবার পোকায় আক্রমন করছে। এভাবেই কৃষক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে জমিতে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বাজুয়ার নিতাই মালী বলে, ” বিভিন্ন কোম্পানির ভেজাল ওষুধ সরবরাহের কারনে পোকা মরছে না। অন্যদিকে ডিলাররা সার- বিষের দাম রেট ছাড়া অনেক বেশি নিচ্ছে। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,ব্যবসায়ীরা দিন দিন লাভবান হচ্ছে ” । হরিনটানার সুশান্ত রায় বলে,” অনভিজ্ঞ ডিলার বাদে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিষ দিতে পারলে হয়তো পোকার আক্রমণ রোধ করা সম্ভব হতো।দু:খের বিষয় কোন কর্মকর্তা এলাকায় আসে না ” । ধোপাদীর বিধান বলে,” কৃষি কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে যদিও আসে কথা বলে বড়লোকের সাথে। প্রকৃত কৃষক কোনো সাহায্য পায়না ” । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কিছু কৃষক বলে,” কোম্পানির লোকজন বড় স্যারের কাছে এমন কিছু দিয়ে আসে তখন স্যার সেই কোম্পানির ঔষধ ব্যবহার করতে বলে। তাই ঔষধে কাজ হোক আর না হোক ” । এই হচ্ছে বাস্তবতা। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে স্বাক্ষাতকালে বলেন,” এই উপজেলায় কৃষি দপ্তরে জনবল কম। আমি নিজেও মাঠে তাই,সাধ্যের ভিতর যতদুর সম্ভব কাছে করি।স্যোশাল মিডিয়ায় দিয়েছি। চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছেও বলেছি। আসলে কৃষকরা ঔষধের ডোজ ঠিক মত মেইন টেইন করে না। আর সবাই একসাথে বিষ দেয়না” । গতবছর তরমুজ চাষে মার খেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারপর কর্মকর্তাদের কিছু কিছু অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য না করতে পেরে কৃষকরা হিংস্র প্রানীর মতো হয়ে উঠেছে। তাই কৃষকের পাশে এসে পরামর্শের মাধ্যমে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোর বিনম্র আহ্ববান দাকোপবাসীর।
Leave a Reply