1. accessinfotechlimited@gmail.com : admi2019 : Crime Talash 24
  2. eleas015@gmail.com : ILIAS HOSEN : ILIAS HOSEN
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

জনতার হাতে আটক এস আই আকবর, পুতিরমালা গলায় দিয়ে রেহাই হয়নি আকবরের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ২৩৪ বার পঠিত
ই - পেপার দেখুন
ই - পেপার দেখুন

 সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম হাসান: সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যার প্রধান অভিযুক্ত আসামি এস আই আলী আকবর গ্রেপ্তার এড়াতে ভারতে পালিয়ে যান বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির আলোচিত আইসি এসআই আকবর। সেখানকার কোনো শহর বা শহরতলীর আশ্রয়ে না গিয়ে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ওপারে খাসিয়া পল্লিতে বসবাস শুরু করেন তিনি। অপরাধী হিসেবে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের কারণে তিনি যেকোন সময় জনতার হাতে আটক হতে পারেন, এমন ভয় থেকেই মূলত খাসিয়া পল্লিতে আশ্রয় নেন আলী আকবর। গ্রেপ্তার বা জনতার হাতে আটকের বিষয়টি এড়ানোর জন্য আকবর ছদ্মবেশও ধরেন। তিনি অনেকটা খাসিয়া পল্লিতে বসবাসকারীদের মতো সাজগোজ করতে শুরু করেন। এমনকি আসল চেহারা লোকানোর জন্য মুখে দাড়ি ও গলায় পুঁতির মালাও পরিধান করেন। কিন্তু কিছুতেই শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে সোমবার দুপুরের দিকে খাসিয়ারা তাকে আটক করে হাত পা বেঁধে বাংলাদেশে হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে, গ্রেপ্তারের সময় আকবর আগ বাড়িয়ে পুলিশকে নিজের পরিচয় দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক সাইফুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে, এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে আটকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জনতার হাতে আটকের দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে আকবরকে ক্রন্দনরত অবস্থায় করজোড় করে জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাকে আটক নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেট দুনিয়ার বাসিন্দারা। অনেকেই এমন কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য স্থানীয় জনতাকে ধন্যবাদ দেন। সেই সাথে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন। এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। ১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Crimetalash24.com
Customized By SuperSoftIT
themesbazcrimetala121