ডেক্স রিপোর্টঃ
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রুটিন ঘোষণা করা হবে। এ পরীক্ষা কয়টি বিষয়ে ও কত নম্বরের মধ্যে নেয়া হবে, যারা এতে অংশ নিতে পারবে না তাদের কী হবে ইত্যাদিসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। ৩ অক্টোবরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়ানো হবে। অতি শীঘ্রই বার্ষিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় বুধবার মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় অংশ নেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চার সপ্তাহের সময় দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করব। কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেব কতটুকু পরীক্ষা নেব তা সোম-মঙ্গলবারে মধ্যে জানিয়ে দেব। তিনি বলেন, ৬ মাস ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ধরে রাখা যায় না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যূনতম কতগুলো বিষয়ে কত নম্বরের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যায় সেটা আমরা জানিয়ে দেব। আবার যখন আমরা পরীক্ষা নেব তখন কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয় তাদের ব্যাপারে কী করব- সে বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। অনেকগুলো বিকল্প ঠিক করা হয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়নের কথাও হয়েছে এসেছে। কোন পন্থা গ্রহণ করা হবে সেটা জানানো হবে। এক কথায় এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।
মন্ত্রী বলেন, এই পরীক্ষার সঙ্গে অনেকে জড়িত। পরীক্ষার্থী ছাড়াও অভিভাবক, হল পরিদর্শক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ লোকের সম্পৃক্ততা। যাদের অধিকাংশ গণপরিবহন ব্যবহার করবে। এ বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছে।
দীপু মনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা ছাড়াই আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা বলছে। আমরা সেটিকে নাকচ করে দিচ্ছি না। তবে পরীক্ষা ছাড়া সার্টিফিকেট দিলে তারা যখন চাকরি নিতে যাবে তখন তাদের বলা হবে, ‘ও তোমরা ২০২০ সালের পরীক্ষা ছাড়া পাস করা ব্যাচ।’ এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় সেটাও ভাবতে হবে।
গত এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তবে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় স্থগিত করা হয় পরীক্ষাটি। ১৭ মার্চ থেকে দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩ অক্টোবরের পরও বাড়ছে। কত দিন বাড়ছে সেটা আমরা জানিয়ে দেব। বিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে আমাদের গাইডলাইন তৈরি করা আছে। খোলার সিদ্ধান্ত হলে তা জানিয়ে দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাদে আর সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি দ্রুত দূর হবে না। তাই কতদিন আর বন্ধ রাখা যাবে- সেটি বিবেচনার বিষয়। এ অবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায়, তাহলে খুলে দেয়া যায় কি না- সে ব্যাপারে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া প্রয়োজন।
সভায় কর্মদিবসের ওপর ভিত্তি করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে বার্ষিক পরীক্ষা, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ, পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের সমান্তরালে নিয়ে আসার তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, এ বিষয়ে অতি শীঘ্রই তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যগত দিক নজরে রাখা হবে।
শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিউশন ফি কমানোর জন্য অনেক ফোরাম থেকে দাবি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে তারা আদালত পর্যন্তও গিয়েছে। তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য টিউশন ফি এক ধরনের নির্দিষ্ট করে দেয়া ঠিক হবে না। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের আয় সমান নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক উভয় পক্ষকে ছাড় দিতে হবে। টিউশন ফির ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আগামী এক বছরের ইনস্টলমেন্টের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে অনড় থাকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
এমসি কলেজ এর দুর্ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এমসি কলেজের ঘটনায় প্রশাসনের ক্ষমতাসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা যা নেয়ার আছে তা নেয়া হবে।
অন্যান্য বিষয় : মন্ত্রী বলেন, যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। সেগুলো দ্রুতই পূরণ করা হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি-প্রোভিসি বা ট্রেজারার পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেয়া যায় এমন একটি পুল তৈরি করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যারা আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এখনও অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আছেন তাদের সময় দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে।
অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জড়িত। তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান দ্রুতই করা হবে। এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। অক্টোবরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। এরপর নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ অর্থবছরের মধ্যে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে পারব কি না জানি না। চেষ্টা চালিয়ে যাব। তিনি বলেন, দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। মৃত ব্যক্তিকে বদলির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, দায়ী সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানেই থাকছে। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আর এ-লেভেল এবং ও-লেভেল পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা অংশ নেবে।
নইলে আগামী মে মাসে তাদের পরীক্ষা দিতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষানীতির ১০ বছর হয়েছে। এটি কিছুটা যুগোপযোগী করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে সমস্যা আছে। এটিও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি কাজ করছে। বিভিন্ন মামলায় মন্ত্রণালয় হেরে যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এজন্য আমরা প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার হিসাব পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন দিতে হচ্ছে।
Leave a Reply