সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠিতে করোনা সংক্রামন প্রতিরোধে মাঠ পর্যায় কাজ করতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ আফজাল হোসেনের খবর নিচ্ছেনা কেউ।
গত ১৮/০৪/২০২০ইং তারিখ বিকেলে করোনা সংক্রামন প্রতিরোধে মাঠ পর্যায় কাজ করতে গিয়ে নবগ্রাম ইউনিয়নস্থ হিমানন্দকাঠি এলাকায় এক সড়ক দূর্ঘটনায় তার ডান পায়ের হাঁটু সহ গোড়ালির উপরিভাগের হাড় ভেঙ্গে যায়।
বর্তমানে সে ঢাকা রিং রোডস্থ ডাঃ সালেক তালুকদারের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘ প্রায় দশ দিন পর ২৮/০৪/২০২০ইং তারিখ রাতে তার পায়ে জরুরী অস্ত্র পাচার করা হয়। দীর্ঘ দশদিন হাসপাতালে থাকা অবস্থায় কেউই তার খবর নিচ্ছেন না বলে জানা যায়।
প্রসংঙ্গত কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার কতৃক ঘোষিত লকডাউন অবস্থায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নবগ্রাম ইউনিয়নে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করনে এবং নিজ কর্মস্থল এলাকার বাজার সমূহে করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে মাঠ পর্যায় কাজ করতে গিয়ে সদর উপজেলার বরিশাল-আটঘর সড়কের নবগ্রাম ইউনিয়নের হিনন্দকাঠি বাজার সংলগ্ন এলাকায় মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় গত ১৮/০৪/২০২০ইং তারিখ বিকেলে তার ডান পায়ের হাঁটু সহ দুটি স্থান ভেঙ্গে ও ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নেয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা নেয়ার পর তার পায়ের অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানানন্তর করে।
বর্তমানে সে ঢাকা রিং রোডস্থ ডাঃ সালেক তালুকদারের চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২৮/০৪/২০২০ইং তারিখ ডা: সালেকের তত্তাবধানে পায়ে অপারেশন করা হয়। দীর্ঘ চারঘন্টাব্যাপী অপারেশন কার্যক্রম শেষ হলে তাকে ওয়ার্ডে নেয়া হয়।
এ বিষয় আহত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারি আফজাল জানান, আজ দশদিন হয়ে গেলো আমি করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে মটরসাইকেল এক্সিডেন্টে আমার ডান পায়ের হাটু সহ একাধিক জায়গার হাড় ভেঙ্গে যায়। বরিশালের ডাক্তার আমার ভাঙ্গা পায়ের অবস্থা খারাপ দেখায় আমাকে ঢাকায় রেফার করে। আমি দেশের জন্য দেশের মানুষের সেবায় কাজ করতে গিয়ে আজ আমার পা হারানো অবস্থা প্রায়।
আজ এ অবস্থায় আমার অধিদপ্তর থেকে কেউ কোন খোঁজ নিচ্ছেন না। বরং আমার পায়ে অস্ত্রপাচার করা হবে বলে আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানাই এবং তাদের নিকট দোয়া প্রার্থনা কামনা করি।
স্বাস্থ্য সহকারি আফজাল সড়ক দূর্ঘটনা আহত হওয়ার বিষয় ইউনিয়ন সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছায়িদা সুলতানার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে প্রতিদিনের ন্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক সিভিল সার্জনের নির্দেশে ইউনিয়নব্যাপী হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করন ও জনগনকে ঘরমুখী করার সচেতনতা সৃষ্টিতে ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সারাদিন স্বাস্থ্য সহকারি আফজাল হোসেন মাঠ পর্যায় কাজ করছিলো। ঐদিন বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন বিমানকে নিয়ে মটরসাইকেল যোগে তার কর্মস্থলের বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা থেকে লোক আসার সংবাদে সেই ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার পরামর্শ দেয়ার জন্য বাড়ী বাড়ী গিয়ে পরামর্শ দেন। এছাড়াও নিকটস্থ হিমানন্দকাঠি বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দোকান খুলে জনসমাগম করতে নিষেধ করা সহ সরকারি নির্দেশ মোতাবেক দোকান খোলার পরামর্শ দেন। বিষয়টি সাংবাদিক ইমাম বিমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঐ দিন তার ব্যক্তিগত প্রফাইলে ফেইসবুক লাইভে প্রকাশ করেন।
Leave a Reply