এক সপ্তাহের কম সময়ে কাতারে বাজবে ফুটবল বিশ্বকাপের বাঁশি। তাইতো সারা দেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও ভবনে ভবনে উড়ছে সমর্থক দেশের পতাকা। ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জির দোকানেও। কিন্তু রাঙামাটিতে সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে আলোচনার তুঙ্গে এখন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সেতু।
রিজার্ভ বাজার-পুরানপাড়া ও ঝুলিক্ক্যা পাহাড়কে ওয়াই আকৃতির সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে মূল শহরের সঙ্গে। সেই সেতুটি উন্নয়ন বোর্ডের নির্ধারিত আকাশী ও সাদা রং করা হয়েছে। রঙের কারণে সেতুটিকে এখন আর্জেন্টিনা সেতু হিসাবে দাবি করছে সমর্থকরা। সেই সেতুতে প্রিয় দলকে নিয়ে চলে নানান আলোচনা।
আর্জেন্টিনা সমর্থকরা সেতু পাবে, ব্রাজিল সমর্থকরা কী আর নীরব থাকতে পারে। তাই আসামবস্তির সঙ্গে খিপ্পাপাড়াকে যুক্ত করা এলজিইডি সেতুকে সবুজ ও হলুদ রং করিয়ে নাম দিয়েছে ব্রাজিল সেতু। যা নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মাঝে চলে খুনসুটি।
আর্জেন্টিনা সমর্থক হেলাল উদ্দিন বলেন, আগে আমরা আসামবস্তি সেতুতে যেতাম, সেতুতে বিকেলের সময়টা ভালো কাটতো। কিন্তু সেই সেতুটিকে সবুজ হলুদ রঙ করিয়ে নিয়েছে ব্রাজিল সমর্থকরা। তাই আমরা আর ওখানে যাই না। আমরা আর্জেন্টিনা সেতুতে আড্ডা দেই।
অপর সমর্থক সাদেকুর ইসলাম বলেন, আমাদের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। তাই আমরা এই ব্রিজেই সময় কাটাই। জল্পনা কল্পনা চলে কীভাবে দল খেলা দেখবো, কোথায় কোথায় পতাকা টানাবো। আমাদের আর্জেন্টিনা এবার খুব শক্তিশালী দল। এবার আমরাই কাপ জিতবো। আর্জেন্টিনার প্রত্যেক খেলার দিন আমরা খানার আয়োজন করবো। সবাই মিল বড় পর্দায় খেলা দেখবো।
এদিকে
মিশু দে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে নির্ধারিত রঙ ব্রিজে করা হয়েছে। এমন রঙয়ের ব্রিজ রাঙামাটিতে অনেক আছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এগুলোকে তাদের ব্রিজ বলছে।
তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনা ব্রিজ থাকবে আর ব্রাজিল ব্রিজ থাকবে না সেটা তো হয় না। তাই আমার আসামবস্তির এজিইডি ব্রিজকে সবুজ হলুদ রঙ করিয়ে ব্রাজিল সেতু না দিয়েছি।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ব্রাজিলের সমর্থক, এবারে কাপ আমরাই জিতবো। আমরা দুই পতাকা তৈরি করেছি সারা শহরে ব্রাজিল পতাকা দিয়ে ভরিয়ে দিব। এলাকায় একসঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখবো।
দুই দলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বাধিক সরব দুই সমর্থকের তর্কযুক্ত ডিজিটাল প্লাটফর্ম ছেড়ে ব্রিজের ওপরও চলছে টিপ্পনী কাটা।
ব্রাজিল সমর্থক শংকর হোড় বলেন, আমরা আর্জেন্টিনাকে দলই মনে করি না। তারা দুবার কাপ জিতেছে, আর আমরা জিতেছি ৫ বার। ওদের সঙ্গে কিসের কথা। ওরা তো আকাশী আর সাদা রঙ দেখলেই আর্জেন্টিনার পতাকা ভাবে। ওই রঙের কাপড় তো আমাদের দেশের ডেকোরেশনে ব্যবহার কারা হয়। ছামিয়ানা টানানো হয়।
আর্জেন্টিনা সমর্থক নাছির উদ্দিন সোহেল, কাপ দেখে ব্রাজিল সমর্থন করা আর শ্বশুরের সম্পত্তি দেখে মেয়ে বিয়ে করা একই কথা। তার সেভেন আপ খেয়েছে কদিন হলো। ঢেঁকুর তুললে গ্যাস বের হয়। তাদের নেইমার তো একজন অভিনেতা, বাতাসে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলে মাঠা পুঁটি মাছের মতো ফাল পাড়ে, তারা আবার বিশ্বকাপ জিতবে!
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখানে উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মাণ করা ব্রিজে আকাশী ও সাদা রং করা হয়। ফলে বিশ্বকাপ মৌসুমে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এগুলোকে নাম দিয়েছে আর্জেন্টিনা সেতু। এখন ব্রাজিল সমর্থকরা আমাকে ধরেছিল তাদের রঙে একটি সেতু রং করে দিতে, ফলে আমি আসামবস্তির এলজিইডি সেতুটিকে সবুজ হলুদ রং করে দিয়েছি। তারাও এখন খুশি। মোট কথা বিশ্বকাপের উন্মাদনা এগুলো। বেশ মজা পাচ্ছে দুই দলের সমর্থকরা।
তিনি বলেন, ব্রিজ রং করে দিয়েছি তাই বলে আমি কিন্তু ব্রাজিল হয়ে গেছি মনে করবেন না। আমি আর্জন্টিনাতেই আছি।
মেয়ের বলেন, অতীতের বিশ্বকাপে আমরা সব দলের সমর্থকরা মজা করে খেলা দেখেছি। রাঙামাটিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমার বিশ্বাস এবারও রাঙামাটিতে সম্প্রতির সঙ্গেই সকলে খেলা দেখবে।
তবে কথার টিপ্পনী যতই চলুক না কেনো দুই দলের সমর্থকরা এ কথাও বলেছে যত পাগলামি সব বিশ্বকাপ ঘিরে। এতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল আমাদের কেউ না। আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সহাবস্থানের মাধ্যমে ফুটবলের শৈল্পিকতা উপভোগ করবে সমর্থকরা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
Leave a Reply