সাদিও মানে নেই। চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়া সেনেগাল প্রায় সাধারণ মানের দল। অথচ সেই সেনেগালের সঙ্গে জিততে নেদারল্যান্ডসের কী কষ্ট! গোল হয় না, গোল হয় না। শেষ পর্যন্ত যখন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ক্রস থেকে আসা বলে লাফিয়ে দারুণ হেডে ডাচ ফরোয়ার্ড কোডি গাপকো সেনেগালের জালে বল পাঠালেন, ম্যাচের ৮৪ মিনিট পেরিয়ে গেছে।
একবার গোলমুখের রাস্তা খোলার পর অবশ্য আর বেশি অপেক্ষা করেনি নেদারল্যান্ডস। যোগ হওয়া সময়ের শেষ মুহূর্তে ডেভি ক্লাসেনের গোলে ব্যবধান হয় ২-০। তার পরপরই শেষ বাঁশি। সেটা ডাচদের জন্য যতটা না আনন্দের, তার চেয়ে বেশি স্বস্তির। গ্রুপের সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য এই জয়টা খুব দরকার ছিল ডাচদের। সেনেগালের জন্য হারটা হতাশার তো বটেই। পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য এখন সম্ভবত ওদের মূল লড়াইটা হবে ইকুয়েডরের সঙ্গে।
শুরুটা হয়েছিল সেনেগালের আক্রমণ দিয়েই। তবে সেই আক্রমণ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া কর্নারটি ফিরিয়েই নিজেদের গুছিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় নেদারল্যান্ডস। সত্যিকারের প্রথম গোলের সুযোগটা তৈরি করেছিল তারাই। কোডি গাপকোর ক্রস থেকে সেনেগালের গোলমুখে বলে পা লাগাতে ব্যর্থ হন স্টিভেন বের্গভাইন। ৯ মিনিটে পাপে আবু সিসে বক্সের মাথা থেকে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। তবে ম্যাচের ১১ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত নেদারল্যান্ডস। সেটি ছিল দারুণ একটা সুযোগ। বের্গভাইন ডান প্রান্তে স্টিভেন বের্গহোইসকে বল ঠেলে দিলে তিনি দারুণ এক ক্রস বাড়িয়েছিলেন গোলমুখে। সেখানে বেশ ভালো জায়গায় বল পেয়েছিলেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। কিন্তু তিনি প্রথম সুযোগেই গোলে শট না নিয়ে কারিকুরি করতে গিয়ে এলোমেলো করে ফেলেন। নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় নেদারল্যান্ডস।
প্রথমার্ধে সেনেগালও দাপট দেখিয়েছে। তবে পরিষ্কার কোনো সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি তারা। ডাচ রক্ষণভাগে ফন ডাইকের নেতৃত্বে ইয়ুরিন টিম্বার, ম্যাথিয়াস ডি লিখট, নাথান আকেদের ডাচ-রক্ষণ সেনেগালের আক্রমণের ঢেউগুলো সামলেছে ভালোভাবেই।
দ্বিতীয়ার্ধে বরং গতি হারিয়েছিল ম্যাচটি। দুই দলই সতর্ক ছিল গোল না খাওয়ার ব্যাপারে। এই অর্ধের শুরুর দিকে ডাচদের তুলনায় সেনেগালই বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। গোলও পেতে পারত তারা। ৬৫ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়ে পাপে গেয়ের নেওয়া শট নেদারল্যান্ডসের অভিষিক্ত গোলকিপার আন্দ্রিস নোপের্ট নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন। ৭৩ মিনিটে পাপে গেয়ে তিন ডাচ রক্ষণসেনার মধ্য দিয়ে বল নিয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন। নোপের্ট ঠেকিয়ে দেন সেটিও।
ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, ততক্ষণে যেন দর্শকেরাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার প্রথমার্ধেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ইরানের। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হয়েছিল, যত দ্রুত পারেন ইরানি দর্শকেরা দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছেড়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু আজ ইংল্যান্ড-ইরানের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও ২৭ মিনিট বেশি সময় খেলা হয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ১৪ মিনিট এবং দ্বিতীয়ার্ধে দেওয়া হয়েছে ১৩ মিনিটের যোগ করা সময়। আর তাতে যোগ হওয়া এই সময়েরই নতুন রেকর্ড দেখল বিশ্বকাপ।
ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় গোলমুখে একটা ক্রস ঠেকাতে গিয়ে সতীর্থ হোসেইনি মাজিদের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ইরানের গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভন্দের। আঘাত যথেষ্ট গুরুতরই ছিল। নাকে চোট পাওয়া আঘাতটা মাথা পর্যন্ত গড়িয়ে ‘কনকাশন’–এ রূপ নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বেইরানভন্দ নিজেই মাঠ ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন ইরানের কোচ কার্লোস কুইরোজকে। তবে এর আগে মাঠে অসুস্থ বেইরানভন্দের শুশ্রূষা চলে মিনিট বিশেক। তাঁর বদলি হিসেবে পরে মাঠে নামেন হোসেইন হোসেইনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের ছন্দ থেমেছে হ্যারি ম্যাগুয়ারের চোট পাওয়ার কারণে। খেলার ৭০ মিনিটে মাথায় চোট পান এই ইংলিশ ডিফেন্ডার। তাঁর শুশ্রূষার জন্যও মাঠে বেশ কিছু সময় খেলা বন্ধ ছিল। দুই দফা দুই দলের ফুটবলারের বড়সড় চোটের কারণেই মূলত দুই অর্ধ মিলিয়ে মোট ২৭ মিনিট যোগ হওয়া সময়ে খেলা চালাতে বাধ্য হন রেফারি।
এতেই হয়েছে রেকর্ড। প্রথমার্ধ শেষে যে ১৪ মিনিট যোগ করা সময় দেওয়া হয়েছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম প্রথমার্ধ। আর সব মিলিয়ে ২৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘতম ম্যাচের রেকর্ড গড়ে ফেলে। যোগ করা সময় মিলিয়ে ম্যাচে খেলা হয়েছে মোট ১১৭ মিনিট।
অফিস : প্লাট নং ১৪ , রোড নং ০২,
সেক্টর ০৬, উত্তরা আবাসিক এলাকা
ঢাকা -১২৩০
+88 01938897695,01720-010780
ইমেইল: dailycrimetalash@gmail.com
Web Design by: SuperSoftIT.com