প্রভাষক আমিনুর রহমান শামীম বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইউনেস্কো স্বীকৃত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ ও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটিকে উদযাপন করেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজ। রবিবার সকাল ১০ টায় প্রতিষ্ঠানের হল রুমে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণের ৫০ বছর পূর্তিতে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ তাহমিনা আক্তারের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন শিক্ষক নেতা ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুর রহমান শামীম। বিশেষ আলোচক ছিলেন ওয়ার্কার্স পাটির ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন সভাপতি প্রভাষক মোঃ ইসমাইল হোসেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত ও প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির ছাত্র জয়ের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন, রুহুল আমীন, প্রভাষক সাবিহা নাসরিন, মিজানুর রহমান, মনিরুজ্জামান মনির প্রমূখ। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কলেজ, মাধ্যমিক ও কারিগরি শাখার সকল শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানটি ভিডিও টেলিকনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা ও গভর্ণিংবডির সদস্যবৃন্দ ভার্চুয়ালি অংশ গ্রহণ করেন। সভার প্রধান আলোচক আমিনুর রহমান শামীম তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। তিনি উল্লেখ করেন, ৪৭ বছর আগে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত সেই উপস্থিত বক্তব্য তৎকালীন সময়ে কেবল বাঙালিকে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়নি সম্প্রতি এই ভাষণ বিশ্বের কাছে এক অনন্য দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে রাজনীতির উর্ধে এসে ৭ই মার্চ পালন তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করেই ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের আশা ব্যক্ত করেন। মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, ইউনেসকো কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক ঐতিহ্য হিসেবে মর্যাদা প্রদান আমাদের সকলের জন্য এক বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক সেই ভাষণে একদিকে যেমন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার নিপীড়ন উল্লেখিত হয় তেমনি মুক্তিকামী বাঙালির জন্য ভাষণটি ছিল দিকনির্দেশনার শামিল। সকল বাধা উপেক্ষা করে মুক্তিকামী লাখো বাঙালি সেদিনের জনসভায় তাঁর নেতৃত্বপূর্ণ বক্তব্য শোনার জন্যই উপস্থিত হয়েছিলেন। অধ্যক্ষ তাহমিনা আক্তার তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধকালে সকলের জন্য উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তাই আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মহান মুক্তিযুদ্ধে এই ভাষণের অবদান অপরিসীম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অকুতোভয় নেতৃত্ব, অপরিসীম আত্মত্যাগ, বিচক্ষণ দূরদৃষ্টি, সাহসিকতা, প্রগতিশীল মনোভাব, দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলি প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। অন্যান্য বক্তারা তারা ভাষণের পটভূমি ও বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনে এর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে জাতির পিতা সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফারুক হোসেন।
Leave a Reply