শ্যামনগরে পরিকল্পনাহীন মৎস্য প্রকল্পের বিদ্যুৎ সংযোগে কিশোরের মৃত্যু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেনঃ
শ্যামনগরে পরিকল্পনাহীন মৎস্য প্রকল্পের অরক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগের স্পর্শে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত কিশোর ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট চরারচক গ্রামের শোকর আলী পুত্র রমজান আলী(১৪)। এলাকাবাসি সুত্রে সুত্রে জানা যায় প্রায় বছর পাচেক আগে অত্র এলাকার প্রায় ১৫০ শত বিঘা জমির উপরে মোনোসেক্স তেলাপিয়া চাষের বৃহৎ প্রকল্প শুরু করে মোড়ল ফিস। যার মালিক মৌতলা ইউনিয়নের সোহরব মোড়লের পুত্র সাইফুল মোড়ল ও সাইমুন মোড়ল।
জানা যায় বৃহৎ এই প্রকল্প চলে ভূগর্ভস্থ পানি দারা। পানি উত্তলনের জন্য প্রকল্পের বিভিন্ন পয়েন্টে বৈদ্যুতিক মোটর বসানো আছে। আর তাতে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ভাবেই বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। বৈদ্যুতিক তার কোথাও মাটিতে কোথাও পানিতে পড়ে থাকে বারো মাস। ইতোপূর্বে একাোদিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সেখানে ঘটেছে। গরু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নিহতের স্বজনরা জানায় রমজান মাঝে মাঝে মরা মাছে সংগ্রহের জন্য ঐ প্রকল্পে যায়। শুক্রবার সকালেও সে মাছ সংগ্রহের জন্য যায়। এরপর মাছ ধরতে নামার সাথে সাথেই পানিতে মিশে ঐ প্রকল্পের অরক্ষিত বৈদ্যুতিক তারে আকর্ষিত হয় রমজান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।
স্থানীয় শহিদুন ইসলাম, আবুল কালাম, ফজলু মাস্টার, রহিমা, বাসন্তী রানী সহ বেশ কয়েকজন জানান, এই মৎস মাঝে মাঝে গরু ছাগল মারা গেছে, মানুষও আক্রান্ত হয়েছে অনেকবার। কিন্তু কর্তৃপক্ষেকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে বললেও তারা কখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি বলেন এমন মৃত্যু আসলেই অনেক দুঃখজনক । আমি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। বিদ্যুতের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এই মৃত্যুর কারন। আর জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ দায়ি। এরকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অব্যবস্থানায় আমি আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড শোকর আলী বলেন, এ ঘটনায় আমি গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করছি। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের চরম উদাসীনতার ফসল।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলহাজ্ব নাজমুল হুদা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হবে।