কামাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বেনাপোল বাসির কাছে ডাক্তার আমজাদ ছিলেন একজন মানবতার মানুষ। তিনি এই জনপদের গরীব, দুঃখী অসহায় মানুষকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়েছেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে তার মত একজন দক্ষ ডাক্তারের বড্ড প্রয়োজন ছিল বেনাপোল। দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল সীমান্ত শহর বেনাপোলে তিনি একটানা ৪০ বছর চিকিৎসা সেবায় অগ্রগনি ভুমিকা রেখেছেন। তার মত মানবতাবাদি মানুষের মৃত্যুতে বেনাপোল বাসি সহ দেশ ও জাতির এক অপুরনীয় ক্ষতি হলো। কথাগুলো বললেন শার্শা উপজেলার কমিউনিটি ক্লিানিকের সাবেক উপ- স্বাস্থ্য সহকারি আমজাদ হোসেনের জানাযা অনুষ্ঠানে মেয়র লিটন।
রোববার (৫ জুলাই ) সকাল সাড়ে ৯ টার সময় বেনাপোল পৌর সভার দিঘিরপাড় রজনী ক্লিনীকের সামনে ডাক্তার আমজাদ হোসেনের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মেয়র লিটন বলেন, আমজাদ হোসেন ছিলেন বেনাপোল তথা শার্শা বাসির প্রানের মানুষ। তাকে যে যেখানে যে সময় ডেকেছে সে সময় যেয়ে হাসি মুখে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। তিনি এই জনপদের মানুষের কথা ভেবে এবং চিকিৎসা সেবায় বেনাপোলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে নিজ উদ্যেগে রজনী ক্লিনীক নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। সেখানে বেনাপোলের মানুষ গভীর রাত্রে যেয়ে ও চিকিৎসা নিতে পারছে। প্রসুতিরা আর রাস্তার ঝাকুনি খেয়ে যশোর না যেয়ে এই ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করছে। তার এই সময় চলে যাওয়া এই জনপদের জন্য এক অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
এসময় ডাক্তার আমজাদ হোসেনের নামাজে জানাযায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, ৪ নং বেনাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, বেনাপোল পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাশেদ আলী, আওয়ামীলীগ নেতা মোজাফফার হোসেন, মহিদুল ইসলাম, আব্দুল খোকন বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ প্রমুখ।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল বলেন, করোনা ভাইরাসে মৃর্ত্যু বরন কারী ডাক্তার আমজাদ হোসেনকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের ও মন্দিরের সেবকদের জন্য করোনা ভাইরাসে মৃত্যূ বরনকারীদের দাফনের জন্য তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মত উপকরন ক্রয় করেছে উপজেলা প্রশাসন থেকে। যারা দাফন করবে তাদেরও জীবনের ভয় আছে। তাদের জন্য পিপি, মাস্ক, জুতা, গ্লাবস, মাথার ক্যাপ এসব সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। যেখানে করোনা পজিটিভ-এ আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাচ্ছে তাদের দাফন সম্পন্নের কাজ উপজেলা প্রশাসন থেকে করা হচ্ছে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে।
উল্লেখ্য আমজাদ হোসেন গত প্রায় ১০ দিন আগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। প্রথমে নিজ ক্লিনিক ও পরে ঢাকা মিরপুর রিজেন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তিনি গত শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় মারা যান।
অফিস : প্লাট নং ১৪ , রোড নং ০২,
সেক্টর ০৬, উত্তরা আবাসিক এলাকা
ঢাকা -১২৩০
+88 01938897695,01720-010780
ইমেইল: dailycrimetalash@gmail.com
Web Design by: SuperSoftIT.com