শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৩ নং নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আয়ূব আলী ফর্সার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিজিডি কার্ডের তালিকায় নাম থাকলেও গত ১৮ মাস ভিজিডি কার্ডের চাল পায়নি অন্তত ১২৪ কার্ডের অবহেলিত দুঃস্থ পরিবার গুলো।১২৪ জনের তালিকায় নামের কার্ড দিয়ে নিয়মিত প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল নিয়মিত ভাবে উত্তোলন করা হয় । কে বা কারা চাল তোলে নিচ্ছে তা বলতে পারছেন না ওই দুঃস্থ নারীরা।অভিযোগে প্রকাশ এসব চাল আইয়ুব আলী ফর্সা চেয়ারম্যানের যোগসাজসে এ চাল আত্মসাৎ করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নলকুড়া ইউনিয়নে ৩৫৩জন দুঃস্থমাতা নারীর তালিকা প্রস্তুত করা হয় ।এসব তালিকা যাচাই বাঁচাই এর দায়িত্বে ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফ্ললুরা ইয়াসমিন তিনি নিজ হাতে নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মেম্বারদের সমন্নয়ে করে উপস্থিত ২২৯ জনের নিকট হাতে হাতে বুঝিয়েদেন অবশিষ্ট ১২৪ জন উপকার ভোগী উপস্থিত না থাকায় ভিজিডির কার্ডগুলো ফেরত আনতে চাইলে চেয়ারম্যান সাহেব বলপ্রয়োগ করে তিনি রেখেদেন অবশিষ্ট কার্ডগুলো। গত ১৮ মাস ধরে এই ১২৪ উপকার ভোগীদের মধ্যে অনেকেই জানেন না তাদের নামে ভিজিডি কার্ড হয়েছে প্রতিমাসে তাদেরকে সরকার চাল দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বারের মাধ্যমে এসব কার্ডের কথা প্রকাশ পাই। তারপর একে একে অনেকেই খুজ নিতে থাকেন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ এর কাছে ৮ জন লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশদেন ১২৪ জনকে সরাসরি নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে হাজির করতে। নির্বাহী কর্মকর্তা ৭ জুলাই বেলা ১১ টাই শুরু করেন উপকার ভোগীদের লাইন করে সচক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, মহিলা মেম্বার সহ এলাকার সাধারণ মানুষ – সেখানে কোনো কোনো উপকার ভোগী বলেন তিনারা গত ১৮ মাসের খবর জানেন না তিনারা ৫ ও ৬ জুলাই রাতে তাদের হাতে কার্ড গুলো পৌঁছে দিয়েছেন। তারা সেই প্রথম থেকে কার্ডধারীরা প্রতি নারী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন না।১২৪ জনের মধ্যে ৭৩ জন উপস্থিত ৫১ জন উপস্থিত ছিলেন না। তালিকায় নাম থাকা স্বত্বেও অন্তত গত ১৮ মাস চাল না পাওয়া ৮ জন নারী কার্ডাদারী না পাওয়াই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদের কাছে। তাদের অভিযোগ, তালিকায় তাদের নাম থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা ভিজিডি কার্ডের চাল পাননি। একাধিক ইউপি সদস্যরা জানান, ৩৫৩টি কার্ডের মধ্যে তারা মাত্র ৯টি করে ভিজিডি কার্ড বরাদ্দের তালিকা পেয়েছেন বাদবাকী কার্ডগুলো নলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ফর্সা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মতান্ত্রিকতার মাধ্যমে বিতরণ করে চাল আত্মসাৎ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ৭ জুলাই সকাল ১১টার দিকে নলকুড়া ইউনিয়নের ১২৪ ভিজিডি কার্ডধারীদের একত্রিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় ভূক্তভোগীরা জানান, ৫ ও ৬ জুলাই রাতে চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ফর্সা ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার চাঁন মিয়া সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রহিমা বেগম ও চেয়ারম্যানের কতিপয় লোক মাধ্যমে রাতের বেলায় ভূক্তভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ড পৌছে দেওয়ার চেষ্টা, লোভ লালসা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কিন্তু ভূক্তভোগীরা তদন্তকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদের নিকট সত্যতায় ঝিনাইগাতী সহকারী কমিশনার ভূমিকে আহ্বায়ক করে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। ৭কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পর দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রুবেল মাহমুদ জানান। তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের, সাবেক-যুবলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা মহিলা সদস্য লাইলী বেগম,সিনিয়র সাংবাদিক হারুন অর রসিদ দুদু, সাংবাদিক, মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, মোঃআবু হেলাল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান আয়ুইব আলী ফর্সা বলেন সামনে নির্বাচন তাই এসব আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ।
Leave a Reply