শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি মহিলা আদশ্য মহাবিদ্যালয়।গত ২০১২ সাল ১২ ডিসেম্বর ডিগ্রী শাখায় ইংরেজি বিভাগ নিয়োগ পান জৈনক পি আর মোহম্মদ রাহুল।তারপর থেকেই তিনি নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে চাকুরি করে আসছেন।সম্প্রতি সরকার ওই কলেজের ডিগ্রী শাখাকে এমপিও ভূক্তির আওতায় আনেন।গত মে মাসে কলেজটি ডিগ্রী শাখার বেতন আসে।ওই বেতন সীট রাহুলের নামের জায়গায় আরেক জনের নাম আসে।রাহুল দেখতে পান তিনি আর সেই কলেজের শিক্ষক নন।এক জনের নামের জায়গায় আরেক জনের নাম এসেছে এমন ঘটনা বেশ কয়েক জন শিক্ষকের ঘটেছে।অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাতারাতি নাম পরিবর্তন করে অন্য জনের চাকুরি পায়িয়ে দিয়েছেন।নতুন এই শিক্ষকদের কলেজের শিক্ষার্থী,শিক্ষক,২০১২ সালের গভনিং বডি,জন প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা কেউ চিনে না।এই ঘটনায় ওই কলেজের অধ্যক্ষের বহু মাত্রিক দূর্ণীতির খবর এখন মানুষর মুখে মুখে। এই অবস্থায় আজ ২ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসক ঝিনাইগাতি উপজলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টির দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।জানা গেছে ২০০২ সাল ওই প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠা কালিন কলেজের অধ্যক্ষের হিসেবে নিয়োগ পান মুহাম্মদ খলিলুর রহমান।তিনি আরবি বিভাগ থেকে পাশ করে জাল সদন দিয়ে ওই কলেজে ইসলামি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।এখান থেকেই তার শুরু।এই জাল সার্টিফিকটের বিষয়টি তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টিতে আসলে অধ্যক্ষের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।ছয় মাস সাময়িক বরখাস্ত থাকার পর রহস্য জনক কারনে তিনি আবারও স্বপদে ফিরেন।এরপর অধ্যক্ষ মাধ্যমিক পর্যায়ের নিয়োগ আহবান করেন।এই নিয়াগও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযাগ আছে।ইতিপূর্বে নানা জায়গায় অভিযাগ দিলেও কিছুই হয়নি।সূত্র জানায় নিয়াগ প্রাপ্ত নন,কলেজে একদিন ক্লাস নেন নাই অথচ অচেনা এই শিক্ষকরা বেতন তুলছেন।নিবন্ধনসহ জাল সনদ চাকুরিতে প্রবেশ করার অভিযাগ রয়েছে অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়কজনের বিরুদ্ধে।অভিযাগ রয়েছে দুই মাস আগে যখন ডিগ্রী শাখার এমপিও(এক বছরের এরিয়াসহ)বিল আসে তখন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিও ভূক্তির আওতায় আনতে অধ্যক্ষের প্রতিজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা চান।যারা টাকা দিতে পেরেছেন তাদের নাম অত্মভূক্ত করা হয়েছে।অন্যদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে।বাদ পড়াদের জায়গায় মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্যজনকে অন্তরভূক্ত করা হয়েছে। ডিগ্রীতে এমপিও ভূক্ত হয়েছেন এমন শিক্ষকদের মধ্যে অন্তত দুজন রয়েছেন যারা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে চার মাস আগেও সরকারি বেতন তুলছেন।রয়েছেন মেট্রাপলিটন স্কুলের শিক্ষক ও বিআরডিবিতে চাকুরি করা একজন।পূর্বেও তারিখ নিয়োগ দেখানো হয়েছে এসব শিক্ষকদের।পূর্বের কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটির স্বাক্ষর জাল করে এসব শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে কমিটির অনেকেই বলেছেন।অসংখ্য শিক্ষার্থী জানিয়েছেন অনেক শিক্ষকেই তারা নাম বা চেহারায় চিনেনা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কলেজের একজন নারী শিক্ষক জানিয়েছেন অধ্যক্ষও তার স্বজনদের দূনীতির কারনে কলেজটি এখন সাধারন মানুষের কাছে ঘৃনার প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। অধ্যক্ষের নিজেকে নিরাপদ রাখতে সম্প্রতি অধ্যক্ষের কলেজের পরিচালনা পরির্ষদ (এ্যাডহক কমিটি) করেছেন নিজের মত করে।কমিটিতে রয়েছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী,ভগ্নিপতি,ভাগনা ও বিয়াইসহ নিকট আত্মীয়রাই।
অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ আলহাজ্ব একএম ফজলুল হক চান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাতা সদস্য, সাবেক উপজলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা অধ্যক্ষের এই কান্ডে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ডিগ্রী নিয়োগ কালীন কলেজের সাবেক সভাপতি একেএম বেলায়েত বলেছেন শিক্ষক মানুষ এমন জালিয়াতি করতে পারেন তা আমার বিশ্বাস হয় না।আমি নিয়োগ দিয়েছি কিন্তু এমপিও ভূক্তিতে নাম এসেছে কোনো কোনো শিক্ষক তাদেরকে আমি চিনিনা বলে জানান। অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে কলেজে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন,সকল নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ডিগ্রি পর্যায়ের এমপিও তালিকা পাঠানা হয়েছে।তার স্ত্রী ও নিজেরসহ কয়কজন শিক্ষকের জাল সনদের অভিযােগের বিষয়টি সুকৌশলে পাশ কাটিয়ে যান।সারাদেশেই নাকি এ রকম হয় থাকে -এমন দাবী ওই অধ্যক্ষের।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেছেন আজ জেলা প্রশাসক আমাকে প্রধান করে খতিয়ে দেখতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এক সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেছেন তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজের পরিচালনা পরিষদ সভাপতি উপজলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেছেন নানা অভিযাগ সম্পর্কে অধ্যক্ষের কাছ থেকে কাগজপত্র চেয়েও আমি পাইনি।কলেজের পরিচালনা পরির্ষদের সবাই ওই অধ্যক্ষের প্রতি মন খারাপ বলে মনে হয় সে কাগজ পাতি দিয়ে সহযোগীতা না করলে আমিই সভাপতির পদ থেকে সরে যাবো বলে জানিয়েছেন নাঈম।
Leave a Reply